ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে আমরা সবাই বাংলাদেশি: প্রধানমন্ত্রী
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত অক্টোবর ২০, ২০২৬, ০২:২০ পূর্বাহ্ণ
সংবাদটি শেয়ার করুন....
ধর্মীয় পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে সব নাগরিককে বাংলাদেশি হিসেবে বিবেচনা করে ঐক্যবদ্ধভাবে দেশ গড়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, ধর্ম আলাদা হতে পারে, কিন্তু রাষ্ট্র সবার এবং প্রত্যেক নাগরিকের সমান অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব।
শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে রাজধানীর ঢাকেশ্বরী মন্দিরের পূজামণ্ডপ পরিদর্শনকালে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের উদ্দেশে দেওয়া বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। আজ সোমবার এ অনুষ্ঠানে তিনি সব ধর্মের মানুষকে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতিতে কাজ করার আহ্বান জানান।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এই দেশ আপনার, এই দেশ আমার। আসুন আমরা সকলে মিলে একসঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দেশটিকে গড়ি।’
প্রধানমন্ত্রীর সহকারী প্রেস সচিব কে এম নাজমুল হক জানান, অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ ও সমাজকল্যাণমন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন।
ধর্মীয় পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে সবাইকে বাংলাদেশি হিসেবে বিবেচনা করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তারেক রহমান বলেন, ধর্ম আলাদা হলেও রাষ্ট্র সবার। এ রাষ্ট্রে প্রত্যেক নাগরিকের সমান অধিকার রয়েছে। সবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও রাষ্ট্রের দায়িত্ব।
তিনি বলেন, ‘ধর্ম আলাদা হতে পারে। কিন্তু রাষ্ট্রটা আমাদের সকলের। বাংলাদেশ নামক যে রাষ্ট্র, এই রাষ্ট্রটি আমাদের সকলের। এই দেশটিতে আপনার যেমন অধিকার আছে, আমারও অধিকার আছে। এই দেশের প্রতি আপনার যেমন কর্তব্য আছে, আমারও এই দেশের প্রতি কর্তব্য আছে।’
নাগরিকদের নিরাপত্তা ও পারস্পরিক সহযোগিতার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, রাষ্ট্রের দায়িত্ব প্রত্যেক নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। একই সঙ্গে নাগরিকদেরও একে অপরের পাশে দাঁড়াতে হবে। পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে দেশকে এগিয়ে নিতে হবে।
তিনি বলেন, ‘আমরা সকলেই এই দেশের সন্তান, এই দেশের মানুষ, আমরা বাংলাদেশি। আমরা প্রত্যেকে মানুষ। সবার আগে এটিই হচ্ছে আমাদের পরিচয়। এখানে উপস্থিত আমরা প্রত্যেকেই বাংলাদেশি।’
মহান মুক্তিযুদ্ধের প্রসঙ্গ তুলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা অর্জনের লক্ষ্যে দেশের মানুষ যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল। তখন কে মুসলমান, কে হিন্দু, কে বৌদ্ধ কিংবা কে খ্রিষ্টান—এমন পরিচয় বিবেচনা করা হয়নি।
গণতন্ত্র ও ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিভিন্ন সময়ে গণতন্ত্র হুমকির মুখে পড়লে মানুষ রাজনৈতিক অধিকার ও ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য রাজপথে নেমেছে। এসব আন্দোলনে কেউ অন্যের ধর্মীয় পরিচয় জানতে চায়নি। সবাই মানুষের কথা বলার অধিকার ও ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার দাবিতে সোচ্চার হয়েছে।
২০২৪ সালের ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতিচারণ করে তারেক রহমান বলেন, ওই সময় হাজার হাজার ও লাখ লাখ মানুষ রাজপথে নেমে এসেছিল। তখন কেউ কাউকে ধর্মীয় পরিচয় জিজ্ঞেস করেনি।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে বিভিন্ন ধর্মের মানুষের আত্মত্যাগের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সেদিন সব ধর্মের মানুষ অংশ নিয়েছিলেন। মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে হিন্দু, মুসলমান, বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের অনেকে শহীদ হয়েছেন।
তিনি জানান, ওই দিনই তিনি ওসমানী উদ্যানে জুলাই শহীদ স্মৃতিস্তম্ভ উদ্বোধন করে এসেছেন। সেখানে বিভিন্ন ধর্মের মানুষের আত্মত্যাগের স্মৃতি রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
দেশের উন্নয়ন ও পরিবর্তনে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের পরিবর্তন হলে সব নাগরিকই উপকৃত হবেন। মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হলে তার ধর্মীয় পরিচয় বিবেচনা করা হয় না; একইভাবে ভালো থাকলেও মানুষ পরস্পরকে মানুষ হিসেবেই দেখে।
তারেক রহমান বলেন, সবাইকে মানুষ এবং বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে বিবেচনা করতে হবে। পারস্পরিক পরিচয় ও সম্পর্কের ভিত্তি হওয়া উচিত মানবিকতা ও নাগরিকত্ব।
শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে দেশের সব সনাতন ধর্মাবলম্বীকে শুভেচ্ছা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ আয়োজন আনন্দের অনুষ্ঠান এবং সবার মিলনমেলা।