• ১৩ই অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ২৮শে আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চন্দ্রপুরের সাবেক আওয়ামী লীগ নেতা মিজান মীরকে ঘিরে নানা অভিযোগ

শরীয়তপুর প্রতিনিধি
প্রকাশিত অক্টোবর ১২, ২০২৬, ২২:৫০ অপরাহ্ণ
চন্দ্রপুরের সাবেক আওয়ামী লীগ নেতা মিজান মীরকে ঘিরে নানা অভিযোগ

আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় ত্রাণ বিষয়ক সম্পাদক (লাল পাঞ্জাবি) ডান পাশে নীল শার্ট মিজান মীর অপর গ্রুপ ছবিতে গোল চিহ্ন (মিজান মীর)সাবেক আওয়ামী লীগের এমপি ইকবাল হোসেন অপুর সাথে বৈঠকরত অবস্থায়।

সংবাদটি শেয়ার করুন....

শরীয়তপুরের পালং উপজেলার চন্দ্রপুর ইউনিয়নের সাবেক ছাত্রলীগ সভাপতি, সাবেক যুবলীগ সভাপতি ও আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মিজান মীরকে ঘিরে এলাকায় নানা অভিযোগ উঠেছে। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পরও তাঁর প্রভাব বিস্তার, রাজনৈতিক অবস্থান পরিবর্তন এবং বিভিন্ন কর্মকাণ্ড নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে বলে অভিযোগকারীদের দাবি। এসব অভিযোগের সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্‌ঘাটন এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

হত্যা মামলার সাজা ও জামিন নিয়ে প্রশ্ন স্থানীয় অভিযোগকারীদের দাবি, একটি হত্যা মামলায় যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত মিজান মীর উচ্চ আদালত থেকে আপিলের শর্তে জামিনে মুক্ত হওয়ার পর পুনরায় বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

রাজনৈতিক পরিচয় পরিবর্তন করে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ অভিযোগকারীদের ভাষ্য অনুযায়ী, আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর মিজান মীর জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সরদার এ কে এম নাছির উদ্দিন কালুর মাধ্যমে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত হন। পরবর্তী সময়ে কালু সরদার সংসদ সদস্য পদে দলীয় মনোনয়ন না পাওয়ার পর মিজান মীর জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ও শরীয়তপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য সাঈদ আহমদ আসলামের ঘনিষ্ঠ হয়ে ওঠেন বলে স্থানীয় কয়েকটি সূত্র দাবি করেছে।

অভিযোগকারীদের আরও দাবি, রাজনৈতিক পরিচয় ও প্রভাবকে কাজে লাগিয়ে তিনি এলাকায় নিজের অবস্থান শক্তিশালী করার চেষ্টা করছেন।
হয়রানি, নির্যাতন ও গ্রেপ্তার-বাণিজ্যের অভিযোগ স্থানীয় কয়েকজনের অভিযোগ, রাজনৈতিক অবস্থান পরিবর্তনের পর চন্দ্রপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীর ওপর চাপ সৃষ্টি, হয়রানি ও নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে। এ ছাড়া কিছু অসাধু পুলিশ কর্মকর্তা ও কর্মচারীর সঙ্গে যোগসাজশ করে গ্রেপ্তার-বাণিজ্য পরিচালনার অভিযোগও তুলেছেন তাঁরা।

অভিযোগকারীদের দাবি, এসব কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে চাঁদাবাজি করে বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন মিজান মীর। তাঁর বিরুদ্ধে কোটি কোটি টাকার সম্পদ গড়ে তোলার অভিযোগও রয়েছে। তবে সম্পদের পরিমাণ, আয়ের উৎস এবং চাঁদাবাজির অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণে আর্থিক লেনদেন, সম্পদবিবরণী ও অন্যান্য প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করে তদন্ত করা জরুরি বলে মনে করছেন অভিযোগকারীরা।

বিএনপির নাম ব্যবহার করে অপরাধের অভিযোগ, দলীয় শুদ্ধি অভিযানের দাবি স্থানীয় বিএনপির কয়েকজন নেতা-কর্মীর অভিযোগ, মিজান মীর সংসদ সদস্য সাঈদ আহমদ আসলামের নাম ব্যবহার করে নিজের প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছেন। তাঁদের দাবি, রাজনৈতিক পরিচয়কে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে কেউ অপরাধে জড়িত থাকলে তাঁর বিরুদ্ধে দলীয় ও প্রশাসনিক পর্যায়ে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।

অভিযোগকারী বিএনপির নেতা-কর্মীরা বলেন, কোনো ব্যক্তি রাজনৈতিক পরিচয় পরিবর্তন করে কিংবা প্রভাবশালী ব্যক্তির সঙ্গে সম্পর্কের দাবি তুলে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকলে তাঁকে ছাড় দেওয়া উচিত নয়। দলের ভাবমূর্তি রক্ষা, ত্যাগী নেতা-কর্মীদের মূল্যায়ন এবং সংগঠনকে বিতর্কমুক্ত রাখতে অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ যাচাই প্রয়োজন।

কথিত কর্মকাণ্ডে সহযোগিতার অভিযোগ স্থানীয় অভিযোগকারীদের দাবি, মিজান মীরের এসব কর্মকাণ্ডে এলাকার একজন চিহ্নিত অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্য এবং একজন প্রবাসী সহযোগিতা করছেন। তাঁদের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগের বিষয়টিও খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন অভিযোগকারীরা।

এ ছাড়া অভিযোগকারীদের দাবি, মিজান মীরের বিরুদ্ধে পালং থানায় প্রায় অর্ধ ডজন মামলা রয়েছে, যার মধ্যে নরহত্যার মামলাও রয়েছে।
প্রশাসনের প্রতি জোরালো দাবি: নিরপেক্ষ তদন্ত ও আইনানুগ ব্যবস্থা এলাকাবাসী ও অভিযোগকারীরা সংশ্লিষ্ট প্রশাসন, পুলিশ বিভাগ এবং বিএনপির দায়িত্বশীল নেতাদের প্রতি অভিযোগগুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করার আহ্বান জানিয়েছেন।

অভিযোগগুলো যাচাই করে প্রয়োজন অনুযায়ী সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বিএনপির সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রীয় ও জেলা পর্যায়ের নেতাদের প্রতিও আহ্বান জানিয়েছেন অভিযোগকারীরা।

একই সঙ্গে মিজান মীরের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা, মিথ্যা অভিযোগ কিংবা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলার মাধ্যমে কোনো নিরপরাধ ব্যক্তি যেন হয়রানির শিকার না হন, সে বিষয়েও প্রশাসনকে সতর্ক থাকার দাবি জানিয়েছেন সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা।

আইনের শাসন প্রতিষ্ঠাই এলাকাবাসীর প্রত্যাশা এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট প্রশাসন, পুলিশ বিভাগ এবং বিএনপির দায়িত্বশীল নেতৃত্ব অভিযোগগুলো গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনা করবেন। অভিযোগগুলোর সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্‌ঘাটন করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

রাজনৈতিক পরিচয় কিংবা প্রভাবের ঊর্ধ্বে উঠে অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠাই এখন এলাকাবাসীর প্রত্যাশা।