• ১৩ই অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ২৮শে আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইউনাইটেড গ্রুপের শেয়ার লেনদেন তদন্তে বিএসইসি

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত অক্টোবর ৯, ২০২৬, ১৫:২০ অপরাহ্ণ
ইউনাইটেড গ্রুপের শেয়ার লেনদেন তদন্তে বিএসইসি
সংবাদটি শেয়ার করুন....

পুঁজিবাজারে স্বচ্ছতা ও বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ সুরক্ষায় ইউনাইটেড পাওয়ার ও খুলনা পাওয়ারসহ কয়েকটি কোম্পানির শেয়ার লেনদেনে কথিত ইনসাইডার ট্রেডিং ও বাজার কারসাজির অভিযোগ তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। এ জন্য তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে ৬০ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।

পুঁজিবাজারে অনিয়মের অভিযোগ খতিয়ে দেখতে গত ৭ অক্টোবর সংশোধিত আদেশ জারি করেছে বিএসইসি। এতে ইউনাইটেড পাওয়ার জেনারেশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড (ইউপিজিডিসিএল), খুলনা পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেড (কেপিসিএল) এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট কোম্পানির শেয়ার লেনদেন তদন্তের আওতায় আনা হয়েছে।

আদেশে ইউনাইটেড গ্রুপের চিফ অ্যাডভাইজার হাসান মাহমুদ রাজা এবং ইউনাইটেড এন্টারপ্রাইজ অ্যান্ড কোম্পানি লিমিটেডের (ইউইসিএল) চেয়ারম্যান মঈনউদ্দিন হাসান রশিদের সংশ্লিষ্টতাসহ লেনদেনে জড়িত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা খতিয়ে দেখতে বলা হয়েছে।

বিএসইসির পরিচালক মোহাম্মদ শামসুর রহমানকে আহ্বায়ক করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন কমিশনের যুগ্ম পরিচালক জিয়াউর রহমান ও সহকারী পরিচালক আলী আহসান। সংশোধিত আদেশ জারির তারিখ থেকে ৬০ কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত শেষ করে প্রতিবেদন জমা দিতে হবে।

বিএসইসির মার্কেট ইন্টেলিজেন্স অ্যান্ড ইনভেস্টিগেশন বিভাগের পরিদর্শন, অনুসন্ধান ও তদন্ত শাখার আদেশে বলা হয়েছে, পুঁজিবাজার ও সাধারণ বিনিয়োগকারীদের বৃহত্তর স্বার্থে বিষয়টি তদন্ত করা প্রয়োজন বলে কমিশন মনে করে।

তদন্তে এম এম হাবিবুল্লাহ ও নুরুজ্জামান জিন্নাহর আবেদনে উত্থাপিত অভিযোগগুলো যাচাই করা হবে। এসব অভিযোগের মধ্যে রয়েছে অন্য ব্যক্তির নামে পরিচালিত বিও ও লেনদেন হিসাব ব্যবহার করে কথিত ইনসাইডার ট্রেডিং, বাজার কারসাজি এবং প্রকৃত মালিকানা গোপন করার বিষয়।

ইউইসিএল, প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি, মালিকানাসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান, আত্মীয়স্বজন, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও সহযোগীদের নামে থাকা প্রাসঙ্গিক বিও, লেনদেন ও ব্যাংক হিসাব পরীক্ষা করবে তদন্ত কমিটি। এসব হিসাব প্রকৃতপক্ষে কারা পরিচালনা করেছেন, কারা নিয়ন্ত্রণ করেছেন এবং কারা সেগুলো ব্যবহার করে সুবিধা পেয়েছেন, তা নির্ধারণের চেষ্টা করা হবে।

সংশ্লিষ্ট শেয়ার কেনার অর্থের উৎস, অর্থের প্রবাহ ও ব্যবহারও তদন্ত করা হবে। বিশেষ করে ইউইসিএল কিংবা প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে কোনো অর্থ স্থানান্তর করা হয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হবে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট শেয়ার, লভ্যাংশ ও অন্যান্য আয় বা প্রাপ্ত অর্থের গতিপথ অনুসরণ করে প্রকৃত সুবিধাভোগী ও চূড়ান্ত প্রাপক শনাক্ত করার চেষ্টা করা হবে।

তদন্ত কমিটি সংশ্লিষ্ট বিও হিসাবের মাধ্যমে কেনা শেয়ারের প্রকৃত মালিকানা ও কার্যকর নিয়ন্ত্রণ কার হাতে ছিল, তা যাচাই করবে। কোনো হিসাব, লেনদেন বা ব্যবস্থার মাধ্যমে প্রকৃত মালিকানা কিংবা নিয়ন্ত্রণ গোপন করা হয়েছিল কি না, সেটিও তদন্তের আওতায় থাকবে।

ইউপিজিডিসিএল, কেপিসিএল ও অন্যান্য সংশ্লিষ্ট কোম্পানির শেয়ার লেনদেনে কৃত্রিম, সমন্বিত, প্রতারণামূলক বা কারসাজিমূলক কার্যক্রম হয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হবে। পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ অপ্রকাশ্য তথ্য ব্যবহার করে শেয়ার কেনাবেচা করা হয়েছিল কি না, হলে ওই তথ্য কার কাছে ছিল, কীভাবে তা আদান-প্রদান হয়েছে এবং কারা এতে জড়িত ছিলেন, সেসব বিষয়ও যাচাই করা হবে।

হাসান মাহমুদ রাজা ও মঈনউদ্দিন হাসান রশিদের ভূমিকার পাশাপাশি এম এম হাবিবুল্লাহ, নুরুজ্জামান জিন্নাহ এবং অন্য কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া যায় কি না, তাও অনুসন্ধান করবে কমিটি।

তদন্তের আওতায় থাকবে সংশ্লিষ্ট স্টক ব্রোকার, মার্চেন্ট ব্যাংক, ব্যাংক, সেন্ট্রাল ডিপোজিটরি বাংলাদেশ লিমিটেড (সিডিবিএল) এবং অন্যান্য মধ্যস্থতাকারী প্রতিষ্ঠানের রেকর্ড ও কার্যক্রম। বিশেষ করে হিসাব খোলা ও পরিচালনা, শেয়ার কেনাবেচার আদেশ দেওয়া ও কার্যকর করা, অর্থ ও শেয়ার স্থানান্তর এবং লভ্যাংশসহ অন্যান্য অর্থের লেনদেনে এসব প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা পরীক্ষা করা হবে।

এ ছাড়া পুঁজিবাজারসংক্রান্ত আইন, বিধি, প্রবিধান ও নির্দেশনা লঙ্ঘন হয়েছে কি না, তা যাচাই করবে তদন্ত কমিটি। এর মধ্যে রয়েছে ইনসাইডার ট্রেডিং, বাজার কারসাজি, প্রতারণা বা বিভ্রান্তিকর কর্মকাণ্ড, অননুমোদিতভাবে হিসাব পরিচালনা বা ব্যবহার এবং প্রকৃত সুবিধাভোগী মালিকানা গোপন করার অভিযোগ।

তদন্তের নির্ধারিত বিষয়গুলোর বাইরে এ-সংক্রান্ত অন্য কোনো প্রাসঙ্গিক তথ্য সামনে এলে সেটিও অনুসন্ধানের আওতায় আনার সুযোগ রাখা হয়েছে।

বিএসইসির এ উদ্যোগের মাধ্যমে অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই, প্রকৃত তথ্য উদ্‌ঘাটন এবং সম্ভাব্য অনিয়মের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান শনাক্ত করার বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। একই সঙ্গে পুঁজিবাজারে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা এবং সাধারণ বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ সুরক্ষার বিষয়টিও তদন্তের মূল লক্ষ্য হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।