• ২০শে অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ৪ঠা কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সুন্দর বাংলাদেশ গড়তে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত অক্টোবর ১৯, ২০২৬, ০১:৩৪ পূর্বাহ্ণ
সুন্দর বাংলাদেশ গড়তে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর
সংবাদটি শেয়ার করুন....
সুন্দর ও স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন এবং ঐক্যবদ্ধভাবে মানুষের কল্যাণে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, মানুষের মুখে হাসি ফোটানোর জন্য কাজ করতে অর্থ বা সামর্থ্যের চেয়ে প্রবল ইচ্ছাশক্তি বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
সুন্দর বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, দেশের মানুষের প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়তে সম্মিলিত উদ্যোগ ও ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টা প্রয়োজন। এই লক্ষ্য নিয়ে কাজ শুরু করেছিলেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান।
রোববার (১৮ অক্টোবর) রাজধানীর শহীদ আবু সাঈদ ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সেন্টারে জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের (জেডআরএফ) ২৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৯৯ সালে জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের যাত্রা শুরু হয়। সংগঠনটির স্লোগান ‘একটি উদ্যোগ, একটু চেষ্টা’ তিনি ২০০৩ সালে লিখেছিলেন। দীর্ঘ ২৭ বছরের পথচলায় ফাউন্ডেশন মানুষের জন্য কাজ করার চেষ্টা করেছে এবং বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করেছে।
তিনি বলেন, সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করলে ‘একটি উদ্যোগ, একটু চেষ্টা এনে দেবে সচ্ছলতা, দেশে আসবে স্বনির্ভরতা’—এই লক্ষ্য বাস্তবে রূপ দেওয়া সম্ভব। সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে মানুষের কাছে পৌঁছানো এবং তাদের কল্যাণে কাজ করা যায়।
জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের প্রেসিডেন্ট তারেক রহমান বলেন, তাঁর বাবা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মৃত্যুর পর তিনি তাঁর রাজনৈতিক ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ড নিয়ে ভাবতে শুরু করেন। ক্ষমতায় থাকাকালে জিয়াউর রহমান বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা, সংবাদপত্রের স্বাধীনতা এবং মানুষের ভোটাধিকার নিশ্চিত করার উদ্যোগ নিয়েছিলেন বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তারেক রহমান বলেন, রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের বাইরেও শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান কৃষকদের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন। দেশের অর্থনীতিতে কৃষকদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা বিবেচনায় নিয়ে তাঁদের উন্নয়নে কাজ করেছেন। পাশাপাশি শিল্পের ভিত্তি শক্তিশালী করা, শিক্ষার আলো মানুষের ঘরে পৌঁছে দেওয়া এবং নারীদের স্বাবলম্বী করে গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েছিলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৯৯ সালে জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠার সময় বিএনপি রাষ্ট্রক্ষমতায় ছিল না। সে কারণে দলটির পরিকল্পনা বাস্তবায়নের সুযোগ সীমিত ছিল। ওই সময়ে বিএনপি মানুষের দুর্ভোগ, দেশের সমস্যা ও গণতন্ত্রের বিষয়গুলো তুলে ধরেছে। এ জন্য দলের নেতাকর্মীদের নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, রাজনীতির পাশাপাশি কীভাবে মানুষের কাছে পৌঁছানো যায় এবং শহীদ জিয়াউর রহমানের জনকল্যাণমূলক কাজ এগিয়ে নেওয়া যায়, সেই লক্ষ্য থেকেই জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন গড়ে তোলা হয়েছিল। ফাউন্ডেশনের কার্যক্রমের মাধ্যমে শহীদ জিয়ার উদ্যোগগুলোকে এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চলছে।
কৃষকদের সহায়তায় শস্যবীজ পৌঁছে দেওয়া এবং গ্রামের অসহায় ও শ্রমজীবী নারীদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করার উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন তারেক রহমান। তিনি বলেন, শহীদ জিয়াউর রহমান পরিবেশ রক্ষা ও বৃক্ষরোপণের মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজ করেছিলেন। সেই ধারাবাহিকতায় জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনও বৃক্ষরোপণ কার্যক্রম শুরু করেছে এবং ঢাকায় কয়েক লাখ গাছ রোপণ করেছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, রাজনীতি মানুষের জন্য কাজ করার একটি ক্ষেত্র হলেও এর বাইরেও সমাজ ও মানুষের কল্যাণে অবদান রাখার সুযোগ রয়েছে। সেই সুযোগ তৈরি করতেই ২৭ বছর আগে জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল।
ফাউন্ডেশনের সদস্য ও কর্মীদের শুভেচ্ছা জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন একটি অরাজনৈতিক সংগঠন। তা সত্ত্বেও বিভিন্ন সময়ে সংগঠনটির কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হয়েছে এবং এর অনেক সদস্যকে নানা ধরনের নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে।
তিনি বলেন, মানুষের জন্য কাজ করতে হলে সবার আগে প্রয়োজন আন্তরিক ইচ্ছা। দেশে ও বিদেশে অনেক বিত্তশালী মানুষ রয়েছেন, যাঁরা নিজেদের সম্পদ সমাজ ও মানুষের কল্যাণে ব্যবহার করতে পারেন। সম্পদের সামান্য অংশও মানুষ, জীবজন্তু ও প্রকৃতির কল্যাণে ব্যয় করা গেলে অনেকের জীবনে স্বস্তি ও আনন্দ নিয়ে আসা সম্ভব।
তারেক রহমান আরও বলেন, মানুষের কল্যাণে কাজ করার ক্ষেত্রে অর্থ বা সামর্থ্যই সব নয়; সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো ইচ্ছা। সংগঠনের প্রত্যেক সদস্যের মধ্যে এমন ইচ্ছা রয়েছে বলে তিনি বিশ্বাস করেন। যত দিন সুস্থ ও সক্ষম থাকা যাবে, তত দিন মানুষের মুখে হাসি ফোটানোই সবার লক্ষ্য হওয়া উচিত বলে তিনি মন্তব্য করেন।
অনুষ্ঠানে জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ২৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন কমিটির সদস্যসচিব অধ্যাপক ডা. সরকার মাহবুব আহমেদ শামীমের সঞ্চালনায় স্বাগত বক্তব্য দেন ফাউন্ডেশনের পরিচালক ও উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মোর্শেদ হাসান খান। পবিত্র কোরআন তিলাওয়াতের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠান শুরু হয়। পরে ফাউন্ডেশনের বিভিন্ন সেবামূলক কার্যক্রম নিয়ে একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়।
অনুষ্ঠানে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্য সেলিমা রহমান, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, সমাজকল্যাণমন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, খাদ্যমন্ত্রী আফরোজা খানম, ভূমি প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন এবং জেডআরএফের নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক ডা. ফরহাদ হালিম ডোনারসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।
জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন ১৯৯৯ সালের ১৮ অক্টোবর একটি অলাভজনক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন হিসেবে যাত্রা শুরু করে। বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাঁর বাবা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্মৃতি সংরক্ষণের লক্ষ্যে সংগঠনটি প্রতিষ্ঠা করেন।
‘একটি উদ্যোগ, একটু চেষ্টা এনে দেবে সচ্ছলতা, দেশে আসবে স্বনির্ভরতা’ স্লোগানকে সামনে রেখে দরিদ্র ও অসহায় মানুষের কল্যাণে কাজ করছে জেডআরএফ। সংগঠনটি বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা, ঘর নির্মাণ, গরু-ছাগল ও হাঁস-মুরগি বিতরণ, সেলাই মেশিন সরবরাহ, চিকিৎসা ও সেবাকেন্দ্র স্থাপন, শীতবস্ত্র বিতরণ, সামাজিক বনায়ন, শস্যবীজ ও বিশুদ্ধ পানি সরবরাহসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পরিচালনা করেছে।
এ ছাড়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ, সেচব্যবস্থার পুনর্বাসন, শিক্ষা বৃত্তি এবং ভার্চুয়াল বিজ্ঞান মেলার মতো প্রকল্পও বাস্তবায়ন ও গ্রহণ করেছে সংগঠনটি। দেশে প্রাকৃতিক দুর্যোগ দেখা দিলে জেডআরএফ সামর্থ্য অনুযায়ী মানবিক সহায়তা কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে।