• ৩রা অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ১৮ই আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে মার্কিন ২০ অঙ্গরাজ্যে মামলা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত ডিসেম্বর ১৩, ২০২৫, ১১:১৮ পূর্বাহ্ণ
ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে মার্কিন ২০ অঙ্গরাজ্যে মামলা
সংবাদটি শেয়ার করুন....

দক্ষ বিদেশি কর্মীদের যুক্তরাষ্ট্রে আনার এইচ-১বি ভিসা কর্মসূচির ফি অস্বাভাবিকভাবে বাড়ানোর সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে মামলা করেছে যুক্তরাষ্ট্রের ২০টি অঙ্গরাজ্য। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেতৃত্বাধীন প্রশাসনের এই সিদ্ধান্তকে অবৈধ ও অযৌক্তিক আখ্যা দিয়ে অঙ্গরাজ্যগুলোর অ্যাটর্নি জেনারেলরা আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন।

মামলার প্রধান বাদি হিসেবে রয়েছেন ক্যালিফোর্নিয়ার অ্যাটর্নি জেনারেল রব বনতা এবং ম্যাসাচুসেটসের অ্যাটর্নি জেনারেল জয় ক্যাম্পবেল। তাদের সঙ্গে অ্যারিজোনা, কলোরাডো, কানেকটিকাট, ডেলাওয়্যার, হাওয়াই, ইলিনয়েস, মেরিল্যান্ড, মিশিগান, মিনেসোটা, নেভাদা, নর্থ ক্যারোলাইনা, নিউ জার্সি, নিউ ইয়র্ক, ওরিগন, রোড আইল্যান্ড, ভারমন্ট, ওয়াশিংটন ও উইসকনসিন অঙ্গরাজ্যের অ্যাটর্নি জেনারেলরাও যুক্ত হয়েছেন।

অভিযোগপত্রে বলা হয়, ট্রাম্প প্রশাসন কোনো যৌক্তিক ব্যাখ্যা ছাড়াই এইচ-১বি ভিসার ফি বাড়িয়ে এক লাখ ডলারে উন্নীত করেছে, যা আইনবিরোধী। এই সিদ্ধান্তের ফলে দক্ষ বিদেশি কর্মীদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে কাজের সুযোগ সীমিত হয়ে পড়ছে এবং দেশটির শ্রমবাজারে ঘাটতি তৈরি হচ্ছে।

ক্যালিফোর্নিয়াকে বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম অর্থনৈতিক শক্তি উল্লেখ করে মামলায় বলা হয়, আন্তর্জাতিক দক্ষ জনশক্তির অবদান ছাড়া এই অর্থনৈতিক অগ্রগতি সম্ভব নয়। প্রযুক্তি, বিজ্ঞান ও উদ্ভাবন খাতে বিদেশি কর্মীদের ভূমিকা যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিকে এগিয়ে নিতে গুরুত্বপূর্ণ।

এইচ-১বি ভিসা কর্মসূচির আওতায় মার্কিন কোম্পানিগুলো অস্থায়ীভাবে দক্ষ বিদেশি কর্মী নিয়োগের সুযোগ পায়। ২০০৪ সালে চালু হওয়া এই কর্মসূচির মাধ্যমে প্রতি বছর প্রায় ৮৫ হাজার বিদেশি কর্মী যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ ও কাজের অনুমতি পান। বিজ্ঞান, তথ্যপ্রযুক্তি, প্রকৌশল এবং ব্যবসা প্রশাসন খাতে মূলত এই ভিসার মাধ্যমে জনবল নিয়োগ দেওয়া হয়।

মার্কিন পরিসংখ্যান অনুযায়ী, অ্যামাজন, মাইক্রোসফট, গুগল, অ্যাপল ও মেটার মতো বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো এইচ-১বি ভিসার প্রধান সুবিধাভোগী। এসব প্রতিষ্ঠানে শত শত বিদেশি পেশাজীবী কাজ করছেন।

এই ভিসার মাধ্যমে স্থায়ী বসবাস এবং পরবর্তীতে নাগরিকত্বের সুযোগও ছিল। এইচ-১বি ভিসাধারীরা সহজেই স্থায়ী বসবাসের অনুমতি পেতেন এবং পাঁচ বছর পর নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করতে পারতেন।

এর আগে এই কর্মসূচিতে নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠানগুলোকে বছরে ১ হাজার ৫০০ ডলার ফি দিতে হতো। তবে গত সেপ্টেম্বর মাসে ট্রাম্প প্রশাসন হঠাৎ করেই সেই ফি বাড়িয়ে এক লাখ ডলার নির্ধারণ করে।

এই সিদ্ধান্তের নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে শুধু করপোরেট খাতে নয়, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতেও। ভিসা ফি বৃদ্ধির কারণে বিদেশি শিক্ষক ও চিকিৎসকদের আবেদন উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। সাম্প্রতিক এক জরিপে দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের ৭৪ শতাংশ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে স্পেশাল এডুকেশন, ফিজিক্যাল সায়েন্স, বাইলিঙ্গুয়াল এডুকেশন এবং বিদেশি ভাষা শিক্ষায় শিক্ষক সংকট দেখা দিয়েছে।

সূত্র: দ্য পলিটিকো, এএফপি, অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস