রাজউকের অভিযানের পরও থামেনি নকশাবহির্ভূত ভবন নির্মাণ
মিটার জব্দের পর কয়েক মাসেই দোতলার ছাদ, প্রশ্নের মুখে রাজউকের তদারকি ও কর্মকর্তাদের ভূমিকা
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত মে ২০, ২০২৬, ১৯:৫৭ অপরাহ্ণ
সংবাদটি শেয়ার করুন....
রাজধানীর দক্ষিনখান থানার মৌশাইর এলাকায় রাজউকের নিয়ম লঙ্ঘন করে ভবন নির্মাণের অভিযোগে নতুন করে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, রাজউকের অভিযানে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন ও মিটার জব্দ করার পরও অবৈধ সংযোগ ব্যবহার করে দ্রুতগতিতে নির্মাণকাজ চালিয়ে গেছেন ভবন মালিক সেলিম ও বাহার উদ্দিন গং।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের জানুয়ারিতে রাজউকের নিয়মিত অভিযানে ভবনটির বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয় এবং মিটার জব্দ করা হয়। সে সময় ভবনটির একতলার কাজও পুরোপুরি শেষ হয়নি। কিন্তু কয়েক মাসের ব্যবধানে বর্তমানে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ভবনটির দোতলার ছাদ ঢালাই সম্পন্ন হয়ে গেছে।
এ ঘটনায় এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। তাদের ভাষ্য, রাজউকের অভিযানের পর বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন ও মিটার জব্দ হওয়ার পরও কীভাবে এত দ্রুত নির্মাণকাজ এগিয়ে গেল? স্থানীয়দের দাবি, সংশ্লিষ্ট কিছু অসাধু কর্মকর্তার নীরব সমর্থন বা যোগসাজশ ছাড়া এ ধরনের কাজ সম্ভব নয়।
ডেসকোর একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, গোপন তথ্যের ভিত্তিতেই তারা ঘটনাস্থলে যান এবং অবৈধ সংযোগের সত্যতা পায়। এরপর তাৎক্ষণিকভাবে অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে এবং ব্যবহৃত বৈদ্যুতিক তার জব্দ করে।
সরেজমিনে মৌশাইর, দক্ষিনখান থানা রোড ও আজমপুর-উত্তরা এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, নির্মাণাধীন ভবনটিতে এখনও কাজের নানা আলামত রয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, প্রশাসনের চোখের সামনেই প্রকাশ্যে এসব অনিয়ম চললেও কার্যকর ব্যবস্থা নিতে দেখা যায়নি।
এ বিষয়ে ভবন মালিক কিংবা তাদের দায়িত্বপ্রাপ্ত কাউকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। ফলে অভিযোগের বিষয়ে তাদের বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।
অন্যদিকে রাজউকের দায়িত্বপ্রাপ্ত ইমারত পরিদর্শক মো. রিফাতের সঙ্গে বারবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে দপ্তরে পাওয়া যায়নি। এতে রাজউকের অবস্থান নিয়েও জনমনে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, বিষয়টি নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে খতিয়ে দেখা হোক এবং যাদের গাফিলতি বা যোগসাজশ রয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হোক। তাদের মতে, দায়িত্বশীল সংস্থার দুর্বল তদারকি ও প্রভাবশালীদের দৌরাত্ম্যের কারণেই রাজধানীতে অবৈধ নির্মাণ থামছে না।