আফগানিস্তান যুদ্ধে অংশ নেওয়া ন্যাটো সেনাদের ভূমিকা নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মন্তব্যের প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ব্রিটিশ রাজপুত্র প্রিন্স হ্যারি। তিনি বলেন, ন্যাটো সেনাদের আত্মত্যাগ নিয়ে কথা বলার ক্ষেত্রে অবশ্যই ‘সত্য ও সম্মানের’ প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকা উচিত।
প্রিন্স হ্যারি বলেন, তিনি নিজে আফগানিস্তানে দায়িত্ব পালন করেছেন। সেখানে তিনি আজীবনের কিছু বন্ধু খুঁজে পেয়েছেন, আবার একইসঙ্গে অনেক কাছের বন্ধুদের হারিয়েছেন। শুক্রবার আফগান যুদ্ধে নিহত ৪৫৭ জন ব্রিটিশ ন্যাটো সেনার প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি আরও বলেন, ২০০১ সালে ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ন্যাটোর ৫ নম্বর অনুচ্ছেদ কার্যকর করা হয়। এর অর্থ ছিল, যৌথ নিরাপত্তার স্বার্থে প্রতিটি মিত্র দেশকে আফগানিস্তানে যুক্তরাষ্ট্রের পাশে দাঁড়াতে হবে। সেই আহ্বানে মিত্র দেশগুলো সাড়া দিয়েছিল।
প্রিন্স হ্যারির ভাষায়, আফগান যুদ্ধে হাজার হাজার মানুষের জীবন চিরতরে বদলে গেছে। অনেক বাবা-মা তাদের সন্তানদের কবর দিয়েছেন, আবার অনেক সন্তান হারিয়েছে তাদের বাবা-মাকে। এসব পরিবারের ওপর এর প্রভাব আজও বহন করতে হচ্ছে।
তিনি বলেন, এই আত্মত্যাগের কথা অবশ্যই সত্য, সম্মান ও মর্যাদার সাথে স্মরণ করা উচিত। কারণ কূটনীতি ও শান্তি রক্ষার প্রশ্নে সবাই ঐক্যবদ্ধ এবং দায়বদ্ধ।
উল্লেখ্য, প্রিন্স হ্যারি আফগানিস্তান যুদ্ধে দু’বার মোতায়েন ছিলেন।
প্রসঙ্গত, সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক সাক্ষাৎকারে দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রের কখনোই ন্যাটো মিত্রদের প্রয়োজন হয়নি এবং তাদের কাছ থেকে কিছু চাওয়াও হয়নি। তিনি আরও বলেন, ন্যাটো মিত্ররা আফগানিস্তানে সৈন্য পাঠালেও তারা মূলত সামনের সারি থেকে কিছুটা দূরে অবস্থান করেছিল।
ট্রাম্পের এ বক্তব্য ঘিরে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার মন্তব্যটিকে স্পষ্টতই অপমানজনক ও ভয়াবহ বলে আখ্যা দেন এবং ভুল বক্তব্যের জন্য ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানান।
যুক্তরাজ্যের পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের মন্ত্রীরাও এই মন্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেন। পোল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রী রাডোস্লা সিকোরস্কি বলেন, ন্যাটো সৈন্যদের সেবাকে উপহাস করার অধিকার কারও নেই। কানাডার প্রতিরক্ষা মন্ত্রী ডেভিড জে ম্যাকগিন্টি বলেন, কানাডীয় সেনারা শুরু থেকেই আফগান যুদ্ধে সরাসরি অংশ নিয়েছেন এবং কান্দাহার প্রদেশে তাদের ১৫৮ জন সেনা এর জন্য বড় মূল্য দিয়েছে।