• ৩রা অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ১৮ই আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

যেভাবে ভুয়া প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ফিলিস্তিনিদের উচ্ছেদ করছে ইসরায়েল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত ডিসেম্বর ২১, ২০২৫, ১২:৪৫ অপরাহ্ণ
যেভাবে ভুয়া প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ফিলিস্তিনিদের উচ্ছেদ করছে ইসরায়েল

ফাইল ছবি

সংবাদটি শেয়ার করুন....

যুদ্ধের মাধ্যমে গাজা উপত্যকা থেকে ফিলিস্তিনিদের সরিয়ে দিতে ব্যর্থ হওয়ার পর নতুন কৌশল নিয়েছে ইহুদিবাদী ইসরায়েল। একটি ভুয়া কোম্পানির মাধ্যমে হতাশাগ্রস্ত ফিলিস্তিনিদের শোষণ করে এবং তাদের গাজা ছাড়তে বাধ্য করার সুযোগ তৈরি করছে তারা।

প্রতিষ্ঠানটি গোপনে দেশ ছাড়ার সুযোগ দেওয়ার নামে বিপুল অর্থ আদায় করছে, যা মূলত এই অঞ্চলে পরিকল্পিতভাবে জাতিগত নির্মূলের অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। কাতারভিত্তিক আল-জাজিরার এক বিশেষ প্রতিবেদনে বিষয়টি উঠে এসেছে। একটি এক্সক্লুসিভ ডিজিটাল অনুসন্ধানে জানা যায়, গত মাসে রহস্যময় এক ফ্লাইটে গাজা থেকে ১৫৩ জন ফিলিস্তিনিকে দক্ষিণ আফ্রিকায় নেওয়া হয়। এই পুরো কার্যক্রমের পেছনে ছিল ‘আল-মাজদ ইউরোপ’ নামে অনিবন্ধিত একটি সংগঠন, যারা মানবিক সহায়তার কথা বললেও সেটি ছিল ভুয়া।

ফিলিস্তিনিরা ১৩ নভেম্বর দক্ষিণ আফ্রিকার ওআর টাম্বো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছালে ইমিগ্রেশন পুলিশ তাদের প্রবেশে বাধা দেয়। তাদের পাসপোর্টে ইসরায়েলি প্রস্থান সিল না থাকায় তারা ১২ ঘণ্টা বিমানে আটকে থাকে এবং পরে নেমে আসার অনুমতি পায়। দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসা জানান, এ ঘটনা তদন্ত করা হবে, কারণ এটি গাজা থেকে জোরপূর্বক বিতাড়নের অংশ হতে পারে। ইসরায়েলি কর্মকর্তারা আগেই বলেছিলেন, তারা গাজা থেকে ফিলিস্তিনিদের ‘স্বেচ্ছায় অভিবাসন’কে সমর্থন করে, যা কার্যত জোরপূর্বক উচ্ছেদ।

২০২৫ সালের মার্চে ইসরায়েলের নিরাপত্তা মন্ত্রিসভা গাজা ছাড়ার প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করতে একটি বিশেষ ব্যুরো গঠন করে, যার নেতৃত্বে ছিলেন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সাবেক উপপরিচালক ইয়াকভ ব্লিটস্টাইন। একই সময় ইসরায়েলি প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ দাবি করেন, গাজার ৪০ শতাংশ মানুষ অভিবাসনে আগ্রহী। তার আগেই ‘আল-মাজদ ইউরোপ’ নতুন ওয়েবসাইট চালু করে জানায়, তারা গাজা ছাড়তে আগ্রহীদের জন্য মানবিক সহায়তা দিচ্ছে, স্বাস্থ্যসেবা দিচ্ছে এবং বিদেশ ভ্রমণের ব্যবস্থা করছে।

কিন্তু আল-জাজিরার অনুসন্ধানে দেখা যায় এসব দাবি ছিল সম্পূর্ণ ভুয়া। সংগঠনটি দাবি করে ২০১০ সালে জার্মানিতে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং সদর দপ্তর পূর্ব জেরুজালেমের শেখ জাররাতে। কিন্তু জার্মানি বা ইউরোপের কোনো রেজিস্ট্রিতে এই সংস্থার নাম নেই, জেরুজালেমের সরকারি নথিতেও খুঁজে পাওয়া যায় না। তাদের দেখানো ঠিকানাও বাস্তবে একটি হাসপাতাল ও একটি ক্যাফের সঙ্গে যুক্ত। বিস্তৃত তদন্তে নিশ্চিত হয়, আল-মাজদ ইউরোপ একটি ভুয়া মানবিক সংস্থা।

সূত্র: আল-জাজিরা

আরো পড়ুন

দৈনিক ভোর
×
Loading...