আমদানি ব্যয় ও ভর্তুকির চাপ সামলাতে জ্বালানি তেলের মূল্য সমন্বয়
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত সেপ্টেম্বর ২২, ২০২৬, ২৩:২৫ অপরাহ্ণ
সংবাদটি শেয়ার করুন....
আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম ও পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধির পাশাপাশি বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) বড় অঙ্কের লোকসান এবং ভর্তুকির চাপ সামাল দিতে দেশে সব ধরনের জ্বালানি তেলের দাম লিটারপ্রতি ২০ টাকা করে বাড়িয়েছে সরকার। ২১ সেপ্টেম্বর থেকে কার্যকর নতুন দরে ডিজেল ১১৫ থেকে বেড়ে ১৩৫ টাকা, অকটেন ১৪৫ থেকে ১৬৫ টাকা, পেট্রোল ১৪০ থেকে ১৬০ টাকা এবং কেরোসিন ১৩৫ থেকে ১৫৫ টাকা লিটার নির্ধারণ করা হয়েছে। জ্বালানি বিভাগ বলছে, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম, জাহাজ ভাড়া, বীমা ও পরিবহন ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে; একই সময়ে দেশের বাজারে তুলনামূলক কম দামে জ্বালানি বিক্রি অব্যাহত থাকায় মার্চ থেকে আগস্ট—ছয় মাসে বিপিসির লোকসান দাঁড়িয়েছে প্রায় ২২ হাজার ৮৭৫ কোটি ৬৬ লাখ টাকা। সংশ্লিষ্টদের হিসাবে, আন্তর্জাতিক বাজারের বর্তমান ব্যয়ের সঙ্গে পুরোপুরি সমন্বয় করলে ডিজেলের দাম লিটারপ্রতি প্রায় ২০৫ টাকা হওয়ার কথা; তবে সাধারণ মানুষ, গণপরিবহন ও সেচনির্ভর কৃষকের সক্ষমতার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে সরকার এর চেয়ে অনেক কম দামে ডিজেল সরবরাহ করছে। ফলে নতুন দাম কার্যকর হওয়ার পরও ডিজেলে প্রতি লিটারে উল্লেখযোগ্য ভর্তুকি বহন করতে হবে সরকারকে। বিপিসি চেয়ারম্যান মো. রফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বৃদ্ধির পাশাপাশি জাহাজ ভাড়া কয়েকগুণ বেড়ে যাওয়ায় বিপিসির লোকসান দ্রুত বাড়ছিল এবং মূল্য সমন্বয় না করলে মাসিক লোকসান আরও বাড়ার আশঙ্কা ছিল। জ্বালানি বিভাগ আরও বলছে, দেশের বাজারে জ্বালানির দামের সঙ্গে প্রতিবেশী দেশগুলোর বড় ব্যবধান থাকায় সীমান্ত দিয়ে জ্বালানি পাচারের ঝুঁকিও তৈরি হয়েছিল; এতে বৈদেশিক মুদ্রায় কেনা জ্বালানির একটি অংশ দেশের বাইরে চলে যাওয়ার আশঙ্কা ছিল। সরকার জানিয়েছে, ২০ টাকা মূল্য সমন্বয়ের ফলে বিপিসির বার্ষিক লোকসান প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা কমানো সম্ভব হতে পারে। তবে জ্বালানির দাম বাড়ার ফলে পরিবহন, কৃষি, শিল্প ও পণ্য পরিবহন ব্যয়ে এর প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে; তাই অতিরিক্ত ভাড়া আদায় বা কৃত্রিম সংকট ঠেকাতে বাজার নজরদারি জোরদারের কথাও জানিয়েছে সরকার। আন্তর্জাতিক বাজার পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে দেশের বাজারেও জ্বালানি তেলের দাম পুনরায় সমন্বয়ের সুযোগ থাকবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।