• ২৩শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ৮ই আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইবিতে ফুটবল খেলায় দফায় দফায় সংঘর্ষ; টুর্নামেন্ট স্থগিত

ইবি প্রতিনিধি
প্রকাশিত সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২৬, ০০:৩৬ পূর্বাহ্ণ
ইবিতে ফুটবল খেলায় দফায় দফায় সংঘর্ষ; টুর্নামেন্ট স্থগিত
সংবাদটি শেয়ার করুন....

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) আন্তঃবিভাগ ফুটবল টুর্নামেন্টের খেলাকে কেন্দ্র করে দফায় দফায় চার বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ফুটবল মাঠে হিসাববিজ্ঞান ও তথ্য পদ্ধতি ও ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের খেলা এবং বিকেলে ফার্মেসি ও বায়োমেডিকেল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের খেলা চলাকালে এসব ঘটনা ঘটে। এমতাবস্থায় সংঘর্ষের কারণ যাচাই-বাছাইয়ের জন্য আন্তঃবিভাগ ফুটবল টুর্নামেন্ট সাময়িকভাবে স্থগিত ঘোষণা করেছে আয়োজক কমিটি।

জানা যায়, সকালে খেলার দ্বিতীয়ার্ধে ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগ হিসাববিজ্ঞান ও তথ্য পদ্ধতি বিভাগের বিপক্ষে ১-০ গোলে এগিয়ে ছিল। একপর্যায়ে তাদের ডাগআউটে বল থ্রো-ইন হলে হিসাববিজ্ঞান বিভাগের খেলোয়াড় মশিউর বল আনতে যান। তখন দর্শক সারিতে থাকা ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের শিক্ষার্থীরা বল দিতে সময়ক্ষেপণ করায় মশিউরের সঙ্গে তাদের বাকবিতণ্ডা ও উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। পরে দুই বিভাগের শিক্ষার্থী ও খেলোয়াড়রা আশপাশে থাকা চারাগাছ ও লাঠিসোঁটা নিয়ে হাতাহাতি এবং সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। পরবর্তীতে খেলা আয়োজক কমিটি ও দুই বিভাগের শিক্ষকদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।

প্রাথমিক তথ্যমতে, হিসাববিজ্ঞান বিভাগের ২০২৪-২৫ বর্ষের আলিফ খান, রাহাত আলিফ, সিয়াম খন্দকার, ইয়াসিন আরাফাত, তোফাজ্জল চৌধুরী ও ২০২৫-২৬ বর্ষের আবু রায়হান, ফাহিম ফাহাদ এবং ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের ২০১৯-২০ বর্ষের সোহাগ, ২০২২-২৩ বর্ষের হুমায়ুন কবিরসহ দশের অধিক শিক্ষার্থী আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। আহতদের চিকিৎসার জন্য ইবি মেডিক্যালে নেওয়া হয়েছে। এদের মধ্যে হিসাববিজ্ঞান বিভাগের আলিফ খানের মাথায় আঘাত এবং ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের সোহাগের ডান হাতের কব্জিতে ফ্র্যাকচার হওয়ায় তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য কুষ্টিয়ায় পাঠানো হয়।

হিসাববিজ্ঞান ও তথ্য পদ্ধতি বিভাগের শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, খেলার শেষ মুহূর্তে বল থ্রো-ইন হওয়ায় তাদের বিভাগের খেলোয়াড় মশিউর বল আনতে যান। এ সময় ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের শিক্ষার্থীরা সময়ক্ষেপণের উদ্দেশ্যে বলটি দূরে ফেলে দেন। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের শিক্ষার্থীরা মশিউরকে এলোপাতাড়ি মারধর করেন।

আহত ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের শিক্ষার্থী হুমায়ুন কবীরের অভিযোগ, বল নিয়ে কথা-কাটাকাটি হওয়ার পর একজন আমাকে পেছন থেকে ধরে উল্টে ফেলে দেন। এরপর অন্যরা আমাকে এলোপাতাড়ি পা দিয়ে মাথায়-মুখে লাথি মারতে থাকেন। এতে আমার মুখ ও দাঁত ফেটে গেছে।

এদিকে বিকেলে ফার্মেসি বিভাগের সাথে বায়োমেডিক্যাল বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যকার খেলা চলাকালে বাকবিতণ্ডা ও পরে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এসময় প্রক্টরিয়াল বডি ও বিভাগের শিক্ষকরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। এতে বায়োমেডিক্যাল বিভাগের ২০২৩-২৪ বর্ষের শিক্ষার্থী প্রত্যয়ের আহত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। পরে খেলাটি টাইব্রেকারে গড়ালে বায়োমেডিক্যাল বিভাগ খেলা থেকে ওয়াকআউট করে। এরপর বিকেলে দ্বিতীয় দফায় ডায়না চত্বরের সামনে ফার্মেসি বিভাগের এক শিক্ষার্থীকে মারধরের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের ২০২৩-২৪ বর্ষের আমির হামজা নামের এক শিক্ষার্থী ও বায়োমেডিকেল বিভাগের শিক্ষার্থী জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনার বিচারের দাবিতে প্রশাসন ভবনের সামনে অবস্থান নেয় ফার্মেসি বিভাগের শিক্ষার্থীরা।

এ বিষয়ে ইবি মেডিক্যালের দায়িত্বরত চিকিৎসক ডা. বদিউজ্জামান বলেন, আহত অবস্থায় কয়েকজন শিক্ষার্থী মেডিক্যালে আসে। তারা প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে চলে গেছে। এদের মধ্যে একজনের মাথা ফেটে গেছে এবং আরেকজনের ঠোঁট কেটে যাওয়া ও দাঁতে আঘাত পাওয়ায় সেলাই দেওয়া হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহীনুজ্জামান বলেন, ‘আহতদের মেডিক্যালে পাঠানো হয়েছে। সকালে দুই বিভাগের ঘটনায় তাদের সঙ্গে বসে বিষয়টি সমাধান করেছি। পরের দুই বিভাগের ঘটনায় তাদের সাথে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত জানাব।

আয়োজক কমিটির আহ্বায়ক প্রফেসর ড. এমতাজ হোসেন বলেন, আজকের ঘটনায় উদ্ভূত পরিস্থিতি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য ফুটবল টুর্নামেন্ট সাময়িকভাবে স্থগিত ঘোষণা করা হয়েছে।