• ২২শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ৭ই আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চামড়া শিল্পকে উচ্চমূল্যের বাজারে নিতে পূর্ণাঙ্গ কমপ্লায়েন্স নিশ্চিত করতে হবে -শিল্পমন্ত্রী

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত সেপ্টেম্বর ২২, ২০২৬, ০৭:৫৪ পূর্বাহ্ণ
চামড়া শিল্পকে উচ্চমূল্যের বাজারে নিতে পূর্ণাঙ্গ কমপ্লায়েন্স নিশ্চিত করতে হবে -শিল্পমন্ত্রী
সংবাদটি শেয়ার করুন....

শিল্পমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেছেন, চামড়া শিল্পকে পুনর্গঠন করে পরিবেশবান্ধব, আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন ও উচ্চমূল্যের রপ্তানিমুখী শিল্পে পরিণত করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। তিনি বলেন, পরিবেশবান্ধব উৎপাদন, আন্তর্জাতিক মানের কমপ্লায়েন্স এবং সর্বোচ্চ মূল্য সংযোজন—এই তিনটি লক্ষ্য সামনে রেখে চামড়া শিল্পকে নতুনভাবে এগিয়ে নেওয়া হবে।
আজ মতিঝিলে শিল্প মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে সাভারস্থ চামড়া শিল্পনগরীতে বিদ্যমান সিইটিপির (CETP) রেক্টিফিকেশন ও আপগ্রেডেশন বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণের লক্ষ্যে গঠিত সভায় সভাপতির বক্তব্যে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, ‘চামড়া শিল্পের ব্যবসা করবেন উদ্যোক্তারাই। সরকারের লক্ষ্য হলো এমন পরিবেশ তৈরি করা, যাতে বাংলাদেশের চামড়া ও চামড়াজাত পণ্যের জন্য বিশ্বের বড় বড় উচ্চমূল্যের বাজার উন্মুক্ত হয় এবং দেশে পরিবেশবান্ধব ও দায়িত্বশীল উপায়ে ব্যবসা পরিচালিত হয়।’ তিনি বলেন, হাজারীবাগ থেকে সাভারে ট্যানারি স্থানান্তর, উদ্যোক্তাদের মূলধন সংকট এবং সিইটিপির কাঙ্ক্ষিত সক্ষমতায় কার্যকর না হওয়াকে শিল্পের বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ বাধা হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, অতীতের সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে এখন নতুনভাবে এ শিল্পকে এগিয়ে নিতে হবে। তিনি বলেন, ভবিষ্যতে এই শিল্পে ব্যবসা করতে হলে প্রত্যেকটি প্রতিষ্ঠানকে পূর্ণাঙ্গ কমপ্লায়েন্ট হতে হবে। নন-কমপ্লায়েন্ট অবস্থায় কেউ ব্যবসা চালাতে পারবেন না।
আব্দুল মুক্তাদির জানান, নির্দিষ্ট সক্ষমতার ট্যানারিগুলোকে নিজস্ব ETP স্থাপনে উৎসাহিত করা হবে এবং এ জন্য প্রয়োজনীয় কারিগরি ও অন্যান্য সহায়তা দেওয়া হবে। একই সঙ্গে সিইটিপির রেক্টিফিকেশন ও আপগ্রেডেশনের পাশাপাশি সলিড ওয়েস্ট ব্যবস্থাপনার জন্য শিল্পনগরীর অভ্যন্তরে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে। নতুন ETP স্থাপনে অর্থায়ন ও বিনিয়োগ সুবিধা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, উদ্যোক্তারা বাংলাদেশ ব্যাংকের বিদ্যমান বিভিন্ন স্কিমের সুবিধা নিতে পারবেন। একই ধরনের ট্যানারির জন্য প্রোটোটাইপ ETP মডেল তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হবে, যাতে সময় ও ব্যয় কমে এবং ব্যবসা সচল রেখেই নতুন ETP স্থাপন করা যায়।
শিল্পমন্ত্রী আরো বলেন, হাজারীবাগের জমি-সংক্রান্ত বিষয় নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেওয়া হবে, যাতে উদ্যোক্তারা তাদের আটকে থাকা সম্পদ ও অর্থনৈতিক সক্ষমতা কাজে লাগাতে পারেন। প্রয়োজনীয় কমপ্লায়েন্স নিশ্চিত করে যারা এ শিল্পে থাকতে চান তাদের সরকার সহযোগিতা করবে; আর যারা থাকতে পারবেন না বা চান না, তাদের জন্য ‘গ্রেসফুল এক্সিট’-এর সুযোগ রাখা হবে। তিনি বলেন, আমরা বাংলাদেশের চামড়া কম মূল্যে বিদেশে পাঠাতে চাই না। সর্বোচ্চ মূল্য সংযোজন করে উচ্চমূল্যের চামড়াজাত পণ্য উৎপাদন ও রপ্তানির মাধ্যমে এই শিল্পকে শক্তিশালী করতে চাই।
সরকার, উদ্যোক্তা ও সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সম্মিলিত উদ্যোগে চামড়া শিল্পের অতীতের সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে একটি পরিবেশবান্ধব, কমপ্লায়েন্ট ও উচ্চমূল্য সংযোজনকারী রপ্তানি শিল্প হিসেবে গড়ে তোলা হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
সভায় অন্যান্যের মধ্যে অর্থ সচিব ড. মোঃ খায়েরুজ্জামান মজুমদার, শিল্প সচিব আব্দুন নাসের খান, বাণিজ্য সচিব মোঃ আতাউর রহমান খান, সভায় সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, চামড়া শিল্পনগরীর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এবং ট্যানারি মালিক ও উদ্যোক্তারা উপস্থিত ছিলেন।