ডামুড্যায় দালালমুক্ত ভূমিসেবা নিশ্চিত করতে নানা উদ্যোগ
নামজারি নিষ্পত্তিতে গড় সময় ১৬ দিন, চালু প্রবাসী হেল্পডেস্ক ও অনলাইন শুনানি
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত অক্টোবর ২৪, ২০২৬, ২০:৫২ অপরাহ্ণ
সংবাদটি শেয়ার করুন....
শরীয়তপুরের ডামুড্যা উপজেলা ভূমি অফিসে স্বচ্ছতা বৃদ্ধি, দালালদের দৌরাত্ম্য রোধ এবং সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমাতে নানা উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নামজারি ও মিসকেসের শুনানিতে অনলাইন সুবিধা, সিসি ক্যামেরা স্থাপন, নির্ধারিত ফি সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং দীর্ঘদিনের অনিষ্পন্ন আবেদন দ্রুত নিষ্পত্তিতে বিশেষ কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) জাহিদুর রহমানের দাবি, এসব উদ্যোগের ফলে বর্তমানে নামজারি নিষ্পত্তিতে গড় সময় লাগছে মাত্র ১৬ দিন, যেখানে সরকার নির্ধারিত সময়সীমা ২৮ দিন।
২০২৬ সালের ৩ জুন ডামুড্যা উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর ভূমিসেবাকে আরও জনবান্ধব, গতিশীল ও প্রযুক্তিনির্ভর করতে বিভিন্ন কার্যক্রম হাতে নেন জাহিদুর রহমান।
ভূমি অফিসের কার্যক্রমে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে নামজারি ও মিসকেসের শুনানিতে সেবাগ্রহীতার সরাসরি উপস্থিতিকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি প্রবাসী ও সরাসরি উপস্থিত হতে অক্ষম ব্যক্তিদের জন্য WhatsApp ও Zoom-এর মাধ্যমে অনলাইন শুনানির ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। আবেদনে কোনো ত্রুটি থাকলে ইন্টারঅ্যাকটিভ স্ক্রিনে তা দেখিয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
দীর্ঘদিন ধরে অনিষ্পন্ন আবেদন দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে ছুটির দিনেও বিশেষ কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। এ ছাড়া ‘সর্বশেষ সেবাগ্রহীতা পর্যন্ত অফিসের দরজা খোলা’ নীতির মাধ্যমে সেবাপ্রার্থীদের প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
জালিয়াতি প্রতিরোধে দলিল যাচাইয়ের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে ভূমি অফিস। একই সঙ্গে ভূমিসেবার নির্ধারিত ফি সম্পর্কে সাধারণ মানুষকে সচেতন করতে ব্যানার, লিফলেট ও গণবিজ্ঞপ্তি প্রচার করা হচ্ছে। ডিজিটাল সেন্টারগুলোতেও ফি-তালিকা প্রদর্শনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে সেবাগ্রহীতারা নির্ধারিত ফির বাইরে অতিরিক্ত অর্থ দাবি করা হলে তা শনাক্ত করতে পারেন।
সেবা কার্যক্রমে জবাবদিহি বাড়াতে উপজেলা ও ইউনিয়ন ভূমি অফিসে সিসি ও আইপি ক্যামেরা স্থাপন এবং অনলাইন কিউ ম্যানেজমেন্ট ব্যবস্থা চালুর কথা জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। প্রবাসীদের জন্য অগ্রাধিকারভিত্তিক সেবা নিশ্চিত করতে চালু করা হয়েছে বিশেষ হেল্পডেস্ক।
অবকাঠামোগত উন্নয়নেও নেওয়া হয়েছে বিভিন্ন পদক্ষেপ। ভূমি মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে প্রধান ফটক সংস্কার, গোলঘরে টাইলস স্থাপন, রেকর্ডরুমে থাই গ্লাস স্থাপন এবং দারুল আমান ও পূর্ব ডামুড্যা ইউনিয়ন ভূমি অফিসের মেরামতকাজ করা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
এ ছাড়া মিসকেস, ভিপি লিজ ও চান্দিনা ভিটি লিজসংক্রান্ত নথি অনলাইন ডাটাবেজে সংরক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মিসকেস ব্যবস্থাপনা আরও সহজ ও গতিশীল করতে ওয়েবভিত্তিক সফটওয়্যার তৈরির কাজও চলমান রয়েছে।
সহকারী কমিশনার (ভূমি) জাহিদুর রহমান বলেন, সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় আধুনিক, স্মার্ট ও প্রযুক্তিনির্ভর ভূমিসেবা পৌঁছে দেওয়া তাঁর অন্যতম লক্ষ্য। সরকার নির্ধারিত ফিতে সেবা গ্রহণ এবং দালালদের প্রতারণা এড়িয়ে চলার বিষয়ে জনগণকে সচেতন করতে তিনি গণমাধ্যমের সহযোগিতা কামনা করেন।
সংশ্লিষ্টদের মতে, এসব উদ্যোগ যথাযথভাবে বাস্তবায়ন ও নিয়মিত তদারকি করা গেলে ভূমিসেবায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি বাড়ানোর পাশাপাশি সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমানো সম্ভব হবে।