তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনের প্রক্রিয়া নিয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি: সালাহউদ্দিন
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২৬, ০০:৩৭ পূর্বাহ্ণ
সংবাদটি শেয়ার করুন....
তত্ত্বাবধায়ক সরকার কী প্রক্রিয়ায় এবং কাদের নিয়ে গঠিত হবে, সে বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি বলে জানিয়েছেন সংবিধান সংশোধন সম্পর্কিত বিশেষ কমিটির সভাপতি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
মঙ্গলবার জাতীয় সংসদের মিডিয়া সেন্টারে কমিটির চতুর্থ বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা ও এর গঠনপ্রক্রিয়া নিয়ে বিভিন্ন মতামত ও প্রস্তাব পাওয়া গেছে এবং এ বিষয়ে আরও উন্মুক্ত আলোচনা প্রয়োজন। জনগণের জন্য উপযুক্ত যে প্রক্রিয়া সংসদ বিবেচনা করবে, সেটিই গ্রহণ করা হবে। তিনি জানান, সংবিধান সংশোধনের উদ্যোগকে অংশগ্রহণমূলক করতে কমিটি বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, গণমাধ্যম, সাংবাদিক সংগঠন ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনের মতামত নিচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় আজ ইলেকট্রনিক মিডিয়া, টেলিভিশন চ্যানেল, অনলাইন পোর্টাল, বার্তা সংস্থা, গণমাধ্যম ও সাংবাদিক সংগঠনের প্রতিনিধি এবং গণমাধ্যম ব্যক্তিত্বদের মতামত নেওয়া হয়েছে। এর আগে সম্পাদক, জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক ও সাংবাদিক সংগঠনের প্রতিনিধিদের সঙ্গেও বৈঠক করা হয়। বৈঠকে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, বিকেন্দ্রীকরণ, দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদ, সংবিধানের প্রস্তাবনা ও রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতিসহ বিভিন্ন বিষয়ে মতামত উঠে এসেছে। তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রসঙ্গে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, জুলাই জাতীয় সনদে এ বিষয়ে বিভিন্ন প্রস্তাব ও ভিন্নমত রয়েছে। সরকার গঠনের ক্ষেত্রে একাধিক বিকল্প প্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনা হতে পারে এবং রাজনৈতিক দলসহ সংশ্লিষ্ট সবার কাছ থেকে প্রস্তাব আহ্বান করা হয়েছে। দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাংলাদেশ একক রাষ্ট্র হওয়ায় এ ধরনের সংসদের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন উঠলেও জুলাই জাতীয় সনদে এ বিষয়ে ঐকমত্য থাকায় কমিটি সেই সিদ্ধান্তের ভিত্তিতেই এগোতে চায়। একই সঙ্গে সংসদে নতুন কোনো প্রস্তাব এলে তা আলোচনার মাধ্যমে বিবেচনা করা হবে। প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালনের সর্বোচ্চ ১০ বছর নির্ধারণের প্রস্তাব নিয়েও মতামত এসেছে জানিয়ে তিনি বলেন, কেউ কেউ মনে করেন, এ ধরনের সীমা গণতান্ত্রিক অধিকারের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হতে পারে; তবে বিএনপি জুলাই জাতীয় সনদ প্রণয়নের সময় যে ১০ বছরের সীমার প্রস্তাব দিয়েছিল, সে অবস্থান থেকে সরে আসেনি। তিনি বলেন, জনগণ কোনো নেতাকে পুনরায় দায়িত্বে দেখতে চাইলে সেই সুযোগ থাকা উচিত—এমন মতও আলোচনায় এসেছে। তবে ব্যক্তিকেন্দ্রিক বা কর্তৃত্ববাদী শাসনের সুযোগ যাতে তৈরি না হয়, সে বিবেচনায় ১০ বছরের সীমার প্রস্তাব করা হয়েছে। সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, জুলাই জাতীয় সনদ যেভাবে প্রণীত ও স্বাক্ষরিত হয়েছে, কমিটি সেটি বাস্তবায়নে অঙ্গীকারবদ্ধ; তবে কোনো রাজনৈতিক দলের ভিন্ন প্রস্তাব থাকলে আলোচনার মাধ্যমে তা বিবেচনা করা যেতে পারে। তিনি জানান, পরবর্তী পর্যায়ে সংবিধান বিশেষজ্ঞ, আইনজীবী, বিচারক ও সাবেক বিচারক, শিক্ষাবিদ, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সামাজিক শক্তি ও সংগঠন, বিভিন্ন সময়ে নিপীড়নের শিকার ব্যক্তি ও তাঁদের পরিবার এবং জুলাইয়ের শহীদ পরিবারের সঙ্গে মতবিনিময় করা হবে। বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মতামত নেওয়ার পর সংবিধান বিশেষজ্ঞদের পরামর্শের ভিত্তিতে একটি প্রতিবেদন তৈরি করে তা জাতীয় সংসদে উপস্থাপন করা হবে। পরে ওই প্রতিবেদনের ভিত্তিতে সংবিধান সংশোধনের বিল সংসদে আনা হবে। জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সাবেক সদস্য ও জুলাই জাতীয় সনদ প্রণয়নে ভূমিকা রাখা ব্যক্তিদের সঙ্গেও আলোচনা করা হবে বলে জানান তিনি। কমিটির সভাপতি বলেন, ছয়টি সংস্কার কমিশনের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে জুলাই জাতীয় সনদ প্রণয়ন করা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট কমিশনগুলোর সঙ্গে প্রায় সব রাজনৈতিক দলের আলোচনা হয়েছে। তবে অন্যান্য সংস্কার কমিশনের প্রতিবেদন বর্তমানে সংবিধান সংশোধন প্রক্রিয়ার বাধ্যতামূলক অংশ নয়; প্রয়োজন হলে সরকার ভবিষ্যতে নির্দিষ্ট বিষয়ে নতুন কমিশন গঠন করে সুপারিশ নিতে পারে। বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মতামতের ভিত্তিতে একটি গ্রহণযোগ্য ও অংশগ্রহণমূলক সংবিধান সংশোধনী প্রণয়ন করাই কমিটির লক্ষ্য বলে জানান সালাহউদ্দিন আহমদ।