
সাইবার বুলিং প্রতিরোধসহ নারীর সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সব রাজনৈতিক দলকে আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কন্যা ব্যারিস্টার জাইমা রহমান।
রবিবার রাজধানীর বিআইআইএসএস অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত ‘গণতন্ত্রের সংগ্রামে নারী : অবদান ও আগামীর বাংলাদেশ’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে প্রধান আলোচক হিসেবে তিনি এ আহ্বান জানান।
জাইমা রহমান বলেন, নারী নিরাপত্তা ও সাইবার বুলিংয়ের মতো বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর আরও সক্রিয় দায়িত্ব গ্রহণ করা জরুরি। এ ক্ষেত্রে কেবল আইন থাকলেই যথেষ্ট নয়, রাজনৈতিক দলগুলোকেও নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্ব নিতে হবে।
তিনি আরও বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর নিজস্ব কোড অব কন্ডাক্ট থাকা প্রয়োজন, যেখানে নারী নেত্রী বা শিক্ষার্থী নেতাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়টি স্পষ্টভাবে অন্তর্ভুক্ত থাকবে। কোনো নারী নেতা বা কর্মী যদি হয়রানির শিকার হন, তাহলে দল হিসেবে তার পাশে দাঁড়ানো এবং তাকে সুরক্ষা দেওয়ার দায়িত্ব নিতে হবে।
নারীদের রাজনীতিতে অংশগ্রহণের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে জাইমা রহমান বলেন, নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে নারীদের উপস্থিতি না থাকলে অনেক বাস্তব সমস্যা পুরোপুরি বোঝা সম্ভব হয় না। রাজনৈতিক অংশগ্রহণে নারীরা বিভিন্ন কাঠামোগত ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রতিবন্ধকতার মুখোমুখি হন, যা মূলত তারাই ভালোভাবে অনুধাবন করতে পারেন।
ডে-কেয়ার সুবিধার উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, কর্মজীবী মায়েদের জন্য মানসম্মত ডে-কেয়ার সেন্টার শুধু নামমাত্র হলে চলবে না। সেখানে প্রশিক্ষিত কর্মী, পর্যাপ্ত জায়গা, শিশুদের খাবার ও স্বাস্থ্যসেবার ব্যবস্থা থাকতে হবে। এসব ব্যবস্থা না থাকলে নারীরা নির্বিঘ্নে কাজ করতে পারবেন না।
নারী নেতৃত্ব তৈরিতে ধারাবাহিক পাইপলাইন গড়ে তোলার গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, ছাত্র রাজনীতি ও স্থানীয় সরকার পর্যায় থেকে নারী নেতৃত্বের পথ তৈরি ও সংরক্ষণ করা না গেলে রাজনৈতিক অংশগ্রহণে কাঙ্ক্ষিত সুযোগ সৃষ্টি হবে না।
নারীদের রাজনীতিতে উৎসাহিত করতে প্রশিক্ষণ ও মেন্টরশিপের ওপর গুরুত্ব দিয়ে জাইমা রহমান বলেন, অভিজ্ঞ পেশাজীবী ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের কাছ থেকে তরুণরা শেখার সুযোগ পেলে নেতৃত্ব গড়ে তোলা সহজ হবে। রাজনৈতিক ও নাগরিক দায়িত্ববোধ বিষয়ে নিয়মিত প্রশিক্ষণ ও মেন্টরশিপ প্রোগ্রাম না থাকলে তরুণদের জন্য সঠিক পথ নির্ধারণ করা কঠিন হয়ে পড়ে।
টেলিভিশন উপস্থাপক কাজী জেসিনের সঞ্চালনায় উইমেন ইন ডেমোক্রেসি (উইন্ড) আয়োজিত এ গোলটেবিল বৈঠকে আরও বক্তব্য দেন বীর মুক্তিযোদ্ধা লুৎফা হাসিন রোজী, একশনএইড বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর ফারাহ কবির, সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী সারা হোসেন, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক ড. নাহরিন ইসলাম খান, গণসংহতি আন্দোলনের সংসদ সদস্য প্রার্থী তাসলিমা আখতার, ডাকসু ভিপি প্রার্থী উমামা ফাতেমা, সানজিদা আহমেদ তন্বী, ব্যারিস্টার সারওয়াত সিরাজ শুকলা, শ্রমিক নেত্রী নাজমা আক্তার, সাংবাদিক জাইমা ইসলাম, ডাকসুর কার্যকরী সদস্য হেমা চাকমাসহ অনেকে।