• ৯ই মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ২৪শে ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

পিআইবির মহাপরিচালকের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ

মোঃ ইকবাল হোসেন সরদার
প্রকাশিত ফেব্রুয়ারি ১৮, ২০২৬, ১৩:০৭ অপরাহ্ণ
পিআইবির মহাপরিচালকের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ
সংবাদটি শেয়ার করুন....

ফারুক ওয়াসিফ গত ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৪ তারিখে পিআইবির মহাপরিচালক হিসেবে যোগদান করেন। যোগদানের কিছুদিন পর থেকেই তিনি বিধিবহির্ভূতভাবে পরিচালক, উপ-পরিচালক, সিনিয়র রিসার্চ অফিসার, সিনিয়র প্রশিক্ষকসহ বিভিন্ন পদে অস্থায়ী ভিত্তিতে তার ঘনিষ্ঠ বন্ধু, বান্ধবী ও আত্মীয়স্বজনদের নিয়োগ দিতে শুরু করেন। এসব নিয়োগের বিষয়ে পিআইবির স্থায়ী কর্মকর্তা-কর্মচারীরা আপত্তি জানালে তাদের ওপর চাপ সৃষ্টি করা হয়।

অভিযোগ রয়েছে, তিনি প্রায়ই দাবি করতেন যে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সচিব তার ঘনিষ্ঠজন এবং পিআইবির বিষয়ে তার সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত—বোর্ড বা মন্ত্রণালয়ের কিছু করার ক্ষমতা নেই। তার কাজে বাধা দিলে চাকরি নষ্ট করে দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে।
নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগ
বর্তমানে ফারুক ওয়াসিফ বিধিবহির্ভূতভাবে মোট ৩৯ জনকে অস্থায়ীভাবে নিয়োগ দিয়েছেন বলে জানা যায়। অভিযোগ রয়েছে, এদের অধিকাংশই তার ঘনিষ্ঠজন এবং মোটা অঙ্কের উৎকোচের বিনিময়ে চাকরি স্থায়ী করার শর্তে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
দুর্নীতি ও অবৈধ নিয়োগের প্রতিবাদ করায় হিসাবরক্ষক (চলতি দায়িত্ব) মো. আলী হোসেনকে বিনা অপরাধে অবসরে পাঠানো হয়। একইভাবে পরিচালক (প্রশিক্ষণ) পারভীন সুলতানা রাব্বীকে মন্ত্রণালয়ে ভুল তথ্য দিয়ে অন্যত্র বদলি করা হয়। অন্যদেরও বিভিন্ন শাখায় বদলি বা কর্মহীন অবস্থায় রাখা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। ফলে পিআইবিতে চাকরি হারানোর আতঙ্ক বিরাজ করছে।
গত বোর্ড সভায় ৩৯ জন অস্থায়ী কর্মকর্তা-কর্মচারীকে স্থায়ী করার প্রস্তাব উপস্থাপন করা হলেও বোর্ড সদস্যরা বিষয়টি বিধিমোতাবেক নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে পুনরায় উপস্থাপনের নির্দেশ দেন। এতে মহাপরিচালক ক্ষুব্ধ হয়ে সম্প্রতি জরুরি ভিত্তিতে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি জারি করেন এবং দ্রুত নির্বাচন কমিটি গঠন করে স্থায়ী নিয়োগ দেওয়ার চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ
অভিযোগ রয়েছে, সংশ্লিষ্ট কয়েকজন কর্মকর্তাকে সঙ্গে নিয়ে সন্ধ্যার পর গোপনে নিয়োগ প্রক্রিয়া ও অন্যান্য কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।
এছাড়া এক অবসরপ্রাপ্ত হিসাব কর্মকর্তাকে বিধিবহির্ভূতভাবে উচ্চ বেতনে উপ-পরিচালক (প্রশাসন) পদে বসিয়ে আয়ন-বায়ন কর্মকর্তার দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে। তার মাধ্যমে ভুয়া বিল-ভাউচার তৈরি করে অবৈধ লেনদেন ও অর্থ আত্মসাতের ঘটনা ঘটছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
আরও অভিযোগ করা হয়েছে যে, আইবাসের মাধ্যমে ২০২৪–২৫ অর্থবছরের বিভিন্ন খাতে অব্যয়িত ১,১২,০০,০০০ টাকা অন্য ব্যাংক হিসাবে স্থানান্তর করা হয়েছে এবং এক খাতের বরাদ্দ অন্য খাতে ব্যয় করা হয়েছে।
সহযোগিতার অভিযোগ
এই অনিয়মে পিআইবির সুবিধাভোগী কয়েকজন কর্মকর্তা সহযোগিতা করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্টদের মাধ্যমে চুরি, দুর্নীতি ও লুটপাটের কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে বলে দাবি করা হয়েছে।

পিআইবিতে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ
মহাপরিচালক ফারুক ওয়াসিফের বিরুদ্ধে ভুয়া বিল, অবৈধ নিয়োগ ও কোটি টাকার অনিয়মের তথ্য

সরকারি প্রতিষ্ঠান প্রেস ইনস্টিটিউট অব বাংলাদেশ (পিআইবি)-এর মহাপরিচালক ফারুক ওয়াসিফের বিরুদ্ধে ভুয়া বিল-ভাউচার তৈরি, নিয়মবহির্ভূত নিয়োগ, টেন্ডারবিহীন সংস্কার কাজ এবং কোটি কোটি টাকা আত্মসাতের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত নথিতে এসব অভিযোগের বিস্তারিত তথ্য উল্লেখ রয়েছে।
নথি অনুযায়ী, বিভিন্ন কর্মসূচি, বরাদ্দ স্থানান্তর, অবকাঠামো ব্যয় ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের মাধ্যমে মোট ৫,২৩,৮৭,৫২৫ টাকা (প্রায় ৫ কোটি ২৪ লাখ টাকা) অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগের সারসংক্ষেপ
🔹 চার কর্মসূচিতে ব্যয় দেখিয়ে অর্থ উত্তোলন (১৮–১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৫)
একই দিনে চারটি কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে দেখিয়ে মোট ২৩,৯৭,৫০০ টাকা ব্যয়ের বিল প্রস্তুত করা হয়।
তারুণ্যের উৎসব–২০২৫ — ৫,৭৩,০০০ টাকা
জুলাই অভ্যুত্থান প্রদর্শনী — ৪,৬৭,৫০০ টাকা
সেমিনার (২০০ সাংবাদিক দেখিয়ে) — ৬,৬৫,৫০০ টাকা
গণআন্দোলনের দিশা ও দর্শন — ৬,৯১,৫০০ টাকা
অভিযোগ রয়েছে—কিছু অনুষ্ঠান বাস্তবে হয়নি এবং অংশগ্রহণকারীদের স্বাক্ষর জাল করা হয়েছে।
🔹 কেস স্টাডি: ‘২০০ সাংবাদিক’ সেমিনার
নথিতে দেখানো হয়েছে—২০০ সাংবাদিক অংশগ্রহণ করেছেন এবং ভাতা/যাতায়াত ব্যয় দেওয়া হয়েছে।
কিন্তু অনুসন্ধানে দাবি করা হয়েছে:
উপস্থিতির তালিকা ও স্বাক্ষর জাল
আলোচকদের সম্মানী বাবদ ১,০০,০০০ টাকা দেখানো হলেও তারা উপস্থিত ছিলেন না
এটি পরিকল্পিতভাবে পরিচিত ব্যক্তিদের নাম ব্যবহার করে আর্থিক কাঠামো তৈরি করে অর্থ উত্তোলনের অভিযোগ নির্দেশ করে।
🔹 আলোচনাসভা ব্যয় (২ সেপ্টেম্বর ২০২৫)
‘Camera & Crowd’ শীর্ষক কর্মসূচিতে — ৫৫,০২৫ টাকা
বিল জমা দেওয়ার এক দিনের মধ্যে অনুমোদনের অভিযোগ
🔹 ব্যাংক ও বরাদ্দ সংক্রান্ত অভিযোগ
২০২৪–২৫ অর্থবছরে বরাদ্দ স্থানান্তর — ১,১২,০০,০০০ টাকা
২০২৩–২৪ অর্থবছরে সরকারি তহবিলে জমা না দেওয়া — ২,২৭,০০,০০০ টাকা
🔹 সংস্কার ও অবকাঠামো ব্যয়
৬ষ্ঠ তলার কাজ — ৭০,০০,০০০ টাকা
অভিযোগ: প্রায় ৫০% অর্থ আত্মসাত
২য় তলার কাজ — ৯০,০০,০০০ টাকা
অভিযোগ: ৪০,০০,০০০ টাকা আত্মসাত
টেন্ডার প্রক্রিয়া অনুসরণ না করার অভিযোগ
🔹 বিদেশ সফর সংক্রান্ত অভিযোগ
আজারবাইজান সফরের আগে অনুমোদন ছাড়া চেক ইস্যু — ৬৫,০০০ টাকা
🔹 নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগ
২০২৪ সালের ২১ সেপ্টেম্বর দায়িত্ব গ্রহণের পর:
৩৯ জনকে নিয়মবহির্ভূত অস্থায়ী নিয়োগ
ঘুষের বিনিময়ে নিয়োগের অভিযোগ
স্থায়ী করার প্রচেষ্টা
আপত্তিকারী কর্মকর্তাদের চাপ/বদলি
বোর্ডের আপত্তি উপেক্ষা
মোট অভিযোগকৃত অর্থ
৫,২৩,৮৭,৫২৫ টাকা (প্রায় ৫ কোটি ২৪ লাখ টাকা)
উপসংহার
নথিতে উত্থাপিত অভিযোগগুলো অত্যন্ত গুরুতর এবং একটি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের আর্থিক ও প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে। অভিযোগগুলো যাচাই ও তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটন জরুরি বলে সংশ্লিষ্ট মহলের মত।

পিআইবিতে অবসরপ্রাপ্তদের হয়রানির অভিযোগ: ডিজির বিরুদ্ধে প্রশ্ন
রাজধানীতে অবস্থিত রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান Press Institute of Bangladesh (পিআইবি)-এর মহাপরিচালক ফারুক ওয়াসিফ-এর কর্মকাণ্ড নিয়ে নানা অভিযোগ উঠেছে বলে জানা গেছে। অভিযোগ রয়েছে, পিআইবি থেকে অবসর গ্রহণকারী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রতিষ্ঠানে প্রবেশে বাধা দেওয়া হচ্ছে এবং তাদের পাওনা সংক্রান্ত বিষয় ঝুলিয়ে রেখে মানসিক চাপ প্রয়োগ করা হচ্ছে।
একাধিক সূত্র দাবি করেছে, অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারীদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে এবং তারা অভিযোগ করছেন যে তাদের প্রাপ্য আর্থিক সুবিধা নিষ্পত্তি না করে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি প্রদর্শনের চেষ্টা চলছে।
এছাড়া অভিযোগ উঠেছে যে, প্রতিষ্ঠানে প্রায় ৩৯ জনকে অস্থায়ী ভিত্তিতে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, যা প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও নীতিমালার বিষয়ে প্রশ্ন তৈরি করেছে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোনো আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা এখনো পাওয়া যায়নি।
অভিযোগের অন্যতম উদাহরণ হিসেবে পিআইবির কর্মচারী ফরিদ আহমেদ-এর সঙ্গে অমানবিক আচরণের ঘটনা উল্লেখ করা হয়েছে। ভুক্তভোগীর দাবি, তার সঙ্গে অপমানজনক আচরণ করা হয়েছে এবং বিষয়টি কর্মচারীদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে।
উল্লেখ্য, এর আগে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন অভিযোগ এনে পিআইবির সিনিয়র পরীক্ষক পারভীন সুলতানা রাব্বিকে যড়যন্ত্র ও কৌশলের আশ্রয় গ্রহণ বদলি করা হয়েছে। জনাব আলী হোসেনের চেকও আটকে রেখেছিলেন। এ ছাড়া তাদেরকে বিভিন্নভাবে হুমকি প্রদান করা হয়েছে বলেও জানা যায়। এভাবে অবসরপ্রাপ্ত প্রত্যেক ব্যক্তির সঙ্গেই তিনি অনুরূপ আচরণ করে থাকেন। এছাড়াও, তিনি প্রায় ৩৪ জন লোককে পিআইপি-তে অস্থায়ীভাবে নিয়োগ দিয়ে একটি সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
উল্লেখ্য, বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য নেওয়া এবং অভিযোগের সত্যতা যাচাই করা জরুরি বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা। প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে এবং কর্মচারীদের ন্যায্য অধিকার রক্ষায় তদন্তের দাবি উঠেছে বিভিন্ন মহল থেকে।
এই বিষয়ে ডিজির সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি সামগ্রীক বিষয় মিথ্যা ও ভিত্তিহীন বলে দাবি করেন।