
- শাহজালালে পশুপাখি ও বন্যপ্রাণীর উপদ্রব বেড়েছে
- রানওয়ে ও আশপাশে এলাকায় পাখির উপস্থিতি ও উড্ডয়ন হুমকিস্বরূপ
- বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা
- বিমান উড্ডয়ন, অবতরণ, বন্দুকের স্বল্পতাসহ রয়েছে আইনি জটিলতাও
- বিমানবন্দরে গ্যাস কামান যন্ত্র সচল ও অত্যাধুনিক যন্ত্র স্থাপন করা জরুরি
বিশ্বের মধ্যে আধুনিক ও নান্দনিক বিমানবন্দর গুলোর মধ্যে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর অন্যতম। রাজধানী ঢাকার প্রাণকেন্দ্র কুর্মিটোলা র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) সদরদপ্তরের পাশে এটি অবস্থিত। শীত মৌসুম শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বাংলাদেশে পশুপাখি ও বন্যপ্রাণীর উপদ্রব তুলনামূলক ভাবে বেড়ে যায়। ফলে সেই কারনেই – যে কোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা থাকে। বিমান উড্ডয়নের রানওয়ে ও তৎসংলগ্ন এলাকায় পাখির উপস্থিতি ও উড্ডয়ন হুমকিস্বরূপ। এছাড়া বিমানবন্দরে বিমান উড্ডয়ন, অবতরণের ঝুঁকি , লোকবল বাড়ানো, প্রশিক্ষণ, বন্দুকের স্বল্পতাসহ রয়েছে আইনি জটিলতাও। তাই পশুপাখি ও বন্যপ্রাণীর উপদ্রব ঠেকাতে এবং বড় ধরনের দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমাতে খুব শিগগিরই ঢাকা শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে গ্যাস কামান যন্ত্র সচল ও অত্যাধুনিক যন্ত্র স্থাপন করা জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। খবর সংশ্লিষ্ট একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্রের।
আজ শনিবার বিকেলে তথ্য অনুসন্ধান ও সরজমিনে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দেশের আটটি বিমানবন্দরে যে কোন ধরনের দুর্ঘটনা ঝুঁকির পাশাপাশি উড়োজাহাজ চলাচলও কিছুটা বিঘ্নিত হয়। অনেক সময় আকাশ পথে পাখির আঘাতের ফলে ফ্লাইট বাতিল, ঘর কুয়াশা, বৈরী আবহায়া, উড়োজাহাজের ইঞ্জিনের ক্ষতি কিংবা উড়োজাহাজ বিধ্বস্ত হয়ে প্রাণহানির মতো ঘটনাও ঘটে থাকে। এক্ষেত্রে বিশ্বব্যাপী বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ উড়োজাহাজ উড্ডয়ন-অবতরণের এলাকা থেকে পাখি ও বন্যপ্রাণীদের দূরে রাখতে আধুনিক প্রচলিত প্রযুক্তি ব্যবহার করে থাকে। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরেরও এ ধরনের সরঞ্জাম রয়েছে। কিন্তু এখানে পাখি তাড়াতে যেসব ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়, তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল এবং ঠিকমতো কাজ না করায় ঝুঁকি নিয়েই উড়োজাহাজ চলাচল করে। শাহজালালে বন্যপ্রাণী ও পাখি তাড়ানোর জন্য রয়েছে বার্ড মনিটরিং কন্ট্রোল সিস্টেম ও বার্ড শুটার।
শনিবার বিমানবন্দরের রানওয়ে ও রানওয়ে তৎসংলগ্ন এলাকা বাউনিয়া, বটতলা, দলিপাড়া, আহালিয়া ও বটতলাসহ বিভিন্ন জায়গা ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।
বিমানবন্দর, বেবিচক ও সেমসুএবং বিভি তথ্য সূত্রে জানা গেছে, অনেক ক্ষেত্রে এ সিস্টেম ঠিকমতো কাজ করছে না। উপরন্তু রয়েছে বার্ড শুটারের স্বল্পতা। এছাড়া নিজস্ব বন্দুক না থাকায় পাখি তাড়াতে গিয়ে বিপাকে পড়ছে বেসরকারি বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)। গত ৫ নভেম্বর,২০২৫
সিভিল এভিয়েশনের এটিএম বিভাগের পরিচালক একেএম সাইদুজ্জামান সেন্ট্রাল প্রকিউরমেন্ট ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড স্টোর ইউনিটের (সেমসু) নির্বাহী পরিচালককে এ সংক্রান্তে একটি চিঠি দিয়ে জানান, বিমান উড্ডয়নের রানওয়ে ও তৎসংলগ্ন এলাকায় পাখির উপস্থিতি ও উড্ডয়ন হুমকিস্বরূপ। পাখির উপদ্রব নিয়ন্ত্রণের জন্য ২০২২ সালে কর্তৃপক্ষ বার্ড মনিটরিং সিস্টেম স্থাপন করে। যন্ত্রটির বিভিন্ন যন্ত্রাংশের কার্যকারিতা আগের চেয়ে কমে যাওয়ায় পাখির উপদ্রব নিয়ন্ত্রণে যথাযথ ফল পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে বিমানবন্দরে বিমান উড্ডয়ন অবতরণ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। চিঠিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়।
বিমানবন্দরে একটি নির্ভরশীল সূত্র বলছে, বেবিচক ও শাহজালাল কর্তৃপক্ষও পাখি ও বন্যপ্রাণী তাড়াতে বার্ড শুটারের স্বল্পতা এবং বার্ড মনিটরিং কন্ট্রোল সিস্টেমে সমস্যার কথা স্বীকার করছেন। তারা বলছেন, বার্ড মনিটরিং কন্ট্রোল সিস্টেমে কিছু সমস্যা দেখা দিয়েছে। এর সমাধানে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানকে বলা হয়েছে। বিমানবাহিনীর বার্ড শুটার প্রতিদিন পাখি তাড়াতে কাজ করছে। এক্ষেত্রে বন্দুকের স্বল্পতা রয়েছে। এটা নিয়ে রয়েছে আইনি জটিলতাও। এসকল সমস্যা গুলো নিরসনে মন্ত্রণালয় কাজ করছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে সম্প্রতি বেবিচক সদস্য (এটিএম) নূর-ই-আলম সাংবাদিকদের বলেন, পাখির উপদ্রবের বিষয়ে গত প্রায় কয়েক মাস ধরে আমরা তৎপর আছি। আমাদের বার্ড শুটারের কিছুটা স্বল্পতা রয়েছে। বিমানবাহিনীর সহায়তায় আমরা এটা কভার করছি। বিমানবাহিনীর বার্ড শুটার প্রতিদিনই আমাদের সহায়তা করছেন। পাখি তাড়ানোর জন্য আমাদের একটি বার্ড মনিটরিং কন্ট্রোল সিস্টেম আছে জানিয়ে তিনি আরো বলেন, সেখানে ক্যামেরা, গ্যাস কামান, লেজার, শব্দ তৈরি করা গাড়িসহ নানা যন্ত্রপাতি রয়েছে। বেবিচক চেয়ারম্যান রানওয়ের বিভিন্ন পয়েন্ট পরিদর্শন করে দেখেছেন সিস্টেমটি ঠিকমতো কাজ করছে কিনা। দুয়েকটা জিনিসে সমস্যা পাওয়া গেছে। ঠিকাদারকে এগুলো ঠিক করার জন্য ডাকা হয়েছে। গত ২ সপ্তাহ আগে বার্ড মনিটরিং সিস্টেমটির ওয়ারেন্টি পিরিয়ড শেষ হয়ে গিয়েছিল। সেটা আরেক বছরের জন্য নবায়ন করা হয়েছে।
এ বিষয়ে অ্যাভিয়েশন বিশেষজ্ঞ কাজী ওয়াহিদুল আলম গণমাধ্যমকে বলেন, ঢাকা হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বন্যপ্রাণী ও পাখির আঘাতে দুর্ঘটনা রোধে দ্রুত গ্যাস কামান যন্ত্র সচল করা এবং অত্যাধুনিক যন্ত্র স্থাপন করা জরুরি। বিশ্বের অন্যান্য দেশের বিমানবন্দরে যানবাহনের গতি নির্ণয় এবং মনিটরিং করা হয় নিয়মিত। শাহজালালে এখনও এ প্রযুক্তির ব্যবহার শুরু না-হওয়াটা অবাক করার মতোই।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে শাহজালাল বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এস, এম রাগীব সামাদ সাংবাদিকদের জানান, এখানে বন্যপ্রাণী তাড়ানোর সিস্টেমটা চালু আছে। আমরা বন্যপ্রাণী তাড়ানোর বিষয়ে এর মধ্যে সভাও করেছি। নতুন সিস্টেম কেনার পরিকল্পনা করেছি। বার্ড মনিটরিং সিস্টেমটায় কিছুটা সমস্যা দেখা দিয়েছে। আশা করি আলাপ আলোচনা মাধ্যমে অচিরেই এসব সমস্যা গুলো চিহ্নিত করে সমাধান করা হবে। এব্যাপারে সরকারের প্রধান উপদেষ্টা, বিমান উপদেষ্টাসহ সরকারের সংশ্লিষ্ট মহলের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন সংশ্লিষ্টরা।