• ২৫শে অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ৯ই কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পারস্য উপসাগরে মার্কিন যুদ্ধজাহাজ ঢুকতে দেবে না ইরান

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত অক্টোবর ২৫, ২০২৬, ০২:১৬ পূর্বাহ্ণ
পারস্য উপসাগরে মার্কিন যুদ্ধজাহাজ ঢুকতে দেবে না ইরান
সংবাদটি শেয়ার করুন....

পারস্য উপসাগরে কোনো পরিস্থিতিতেই মার্কিন সামরিক জাহাজ প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর চিফ অব স্টাফ আলী আবদুল্লাহি। এদিকে, চলতি সপ্তাহান্তে ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না বলে সতর্ক করেছেন তুরস্কে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত টম ব্যারাক।

ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের নতুন করে হামলার হুমকি বাড়তে থাকার মধ্যে পারস্য উপসাগরে মার্কিন সামরিক জাহাজের প্রবেশ ঠেকানোর ঘোষণা দিয়েছে তেহরান।

শনিবার ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের বরাতে আলী আবদুল্লাহি বলেন, কোনো পরিস্থিতিতেই এবং কোনো সময়েই মার্কিন সামরিক জাহাজকে পারস্য উপসাগরে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না। তিনি আরও বলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে তাঁর দেশের সশস্ত্র বাহিনীর পারস্য উপসাগরে প্রবেশের দৃশ্য কেবল স্বপ্নেই দেখতে হবে এবং সেই স্বপ্ন নিয়েই তাঁকে কবরে যেতে হবে।

তেহরান থেকে এএফপির প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

এদিকে, তুরস্কে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত টম ব্যারাক সতর্ক করে বলেছেন, চলতি সপ্তাহান্তেই যুক্তরাষ্ট্র ইরানে হামলা চালাতে পারে—এ সম্ভাবনা একেবারেই উড়িয়ে দেওয়া যায় না।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচল সীমিত করে রেখেছে ইরানি বাহিনী। জ্বালানি পরিবহনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ পারস্য উপসাগরে প্রবেশের প্রধান পথ।

ইরানের এই পদক্ষেপের জবাবে দেশটির বন্দর ও জাহাজের ওপর অবরোধ আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। অন্যদিকে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলের জন্য জাহাজগুলোকে ইরানের অনুমতি নিতে হচ্ছে। ওমানের উপকূলসংলগ্ন দক্ষিণ দিকের পথ দিয়ে প্রণালিটি অতিক্রমের চেষ্টা করা জাহাজগুলোও বারবার হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছে।

ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ডসের দাবি, তেহরানের বিবেচনায় ‘অবৈধ’ পথ দিয়ে হরমুজ প্রণালি পার হওয়ার চেষ্টা করা কয়েকটি ট্যাংকার সাম্প্রতিক দিনগুলোতে মাইনের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

শুক্রবার গার্ডস জানায়, কৌশলগত এই জলপথে মাইনের আঘাতে ৪৫ লাখ ব্যারেলের বেশি অপরিশোধিত তেলবাহী দুটি সুপারট্যাংকার সাগরে পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়েছে।

গার্ডসের সেপাহ নিউজ ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বলা হয়, বিস্ফোরণ ও ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে জাহাজ দুটির ইঞ্জিনকক্ষ অচল হয়ে পড়েছে।

শান্তিকালীন সময়ে বিশ্বের মোট তেল ও গ্যাসের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হতো।