• ২১শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ৬ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম-এর জীবনবৃত্তান্ত

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত মে ১২, ২০২৬, ১৫:০২ অপরাহ্ণ
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম-এর জীবনবৃত্তান্ত
সংবাদটি শেয়ার করুন....

মীর শাহে আলম ১৯৭০ সালের ৭ আগস্ট বগুড়া জেলায় জন্মগ্রহণ করেন। তিনি বগুড়ার শিবগঞ্জে বেড়ে ওঠেন। এই অঞ্চলের সাথে তাঁর গভীর ও নিবিড় সম্পর্ক, যা পরবর্তীতে তাঁর রাজনৈতিক জীবনের মূলভিত্তি হিসেবে কাজ করেছে। তিনি মোছাঃ রাজেনা বেগম ও প্রয়াত মীর মোজাফফর রহমানের ছয় সন্তানের মধ্যে পঞ্চম।

তাঁর শিক্ষাজীবন শুরু হয় শিবগঞ্জে। তিনি শিবগঞ্জ এম.এইচ. কলেজে অধ্যয়ন করেন। পরবর্তীতে তিনি এম.বি.এ সম্পন্ন করেন। ১৯৮৯ সালে বিএনপির সহযোগী সংগঠন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলে যোগদানের মাধ্যমে ছাত্ররাজনীতিতে তাঁর পথচলা শুরু। পরবর্তীতে ১৯৯১ সালে তিনি উপজেলা ছাত্রদলের সম্পাদক এবং ১৯৯২ সালে জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

১৯৯৭ সালে ২৩ বছর বয়সে আটমূল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার মধ্য দিয়ে তাঁর প্রাতিষ্ঠানিক রাজনৈতিক জীবনের সূচনা হয়। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) অভ্যন্তরে তিনি গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০০২ সালে শিবগঞ্জ পৌর বিএনপির আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব লাভ করেন, ২০০৯ সালে শিবগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন, ২০১০ সালে শিবগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সম্পাদক এবং বগুড়া জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পান। ২০১৩ ও ২০২২ সালে শিবগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি নির্বাচিত হন ও একই বছর তিনি বগুড়া জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি হিসেবেও দায়িত্বপ্রাপ্ত হন। ২০২৬ সালে তিনি বগুড়া-২ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে ১৭ ফেব্রুয়ারি স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেন।

রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি তিনি একজন সফল উদ্যোক্তা এবং রূপসী বিডি গ্রুপের চেয়ারম্যান। তাঁর ব্যবসায়িক কার্যক্রম এগ্রো, নিউট্রিশন ও মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনাসহ বিভিন্ন খাতে বিস্তৃত, যা অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে।

জনসেবামূলক কার্যক্রমেও তিনি সমানভাবে সক্রিয়। তিনি বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্পোরেশন (বিআরটিসি)-এর পরিচালক হিসেবে দুই দফায় দায়িত্ব পালন করেছেন। পাশাপাশি, বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প কর্পোরেশন (বিসিক)-এর পরিচালক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করে শিল্পখাতের উন্নয়নে ভূমিকা রেখেছেন।

সমাজ উন্নয়নের ক্ষেত্রে শিক্ষা ও ক্রীড়াকে তিনি বিশেষভাবে গুরুত্ব দিয়ে থাকেন। এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে তিনি নিজ এলাকায় একাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, মাদ্রাসা, এতিমখানা ও ক্রীড়া কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা ও পৃষ্ঠপোষকতা করেছেন। এসব উদ্যোগ তৃণমূল পর্যায়ে শিক্ষা বিস্তার, সমাজ কল্যাণ এবং তরুণ প্রজন্মের সুস্থ শারীরিক ও মানসিক বিকাশে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করছে।

রাজনীতির সাথে তাঁর পরিবারের দীর্ঘদিনের সম্পৃক্ততা রয়েছে। চাচা মীর আবু জাকের মাকু বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার আটমূল ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে দায়িত্ব পালন করছেন। বড় ভাই মীর আইনুর রহমানও দীর্ঘদিন শিবগঞ্জ পৌর বিএনপির সহ-সভাপতি হিসেবে সক্রিয় রয়েছেন।। পারিবারিক এই ধারাবাহিকতা পরবর্তী প্রজন্মেও অব্যাহত রয়েছে-বড় ছেলে মীর শাকরুল আলম সিমান্ত শিবগঞ্জ উপজেলা বিএনপির ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

ব্যক্তিগত জীবনে তিনি মীর লাবণী আক্তারের সাথে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ। তাদের দুই পুত্র-মীর শাকরুল আলম সিমান্ত ও মীর সাকলাইন আলম দিগন্ত এবং এক কন্যা মীর সামারা সুনাত কায়নাত। তাঁর সহধর্মিণী ঢাকা ও বগুড়ায় বিভিন্ন সমাজসেবামূলক কার্যক্রমে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করে আসছেন, যা পরিবারটির সামগ্রিক সামাজিক সম্পৃক্ততাকে আরো সুদৃঢ় করেছে।