• ৩রা অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ১৮ই আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

অধিকাল ভাতা বন্ধের প্রতিবাদে বেনাপোল স্থলবন্দরে কর্মচারীদের মানববন্ধন

বেনাপোল প্রতিনিধি
প্রকাশিত জানুয়ারি ২৭, ২০২৬, ২২:১৭ অপরাহ্ণ
অধিকাল ভাতা বন্ধের প্রতিবাদে বেনাপোল স্থলবন্দরে কর্মচারীদের মানববন্ধন
সংবাদটি শেয়ার করুন....

অতিরিক্ত কাজের বিপরীতে দীর্ঘ ২১ বছর ধরে চালু থাকা অধিকাল ভাতা বন্ধের প্রতিবাদ এবং তা পুনরায় চালুর দাবিতে বেনাপোল স্থলবন্দরে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন বাংলাদেশ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষে কর্মরত সকল কর্মচারী।

মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) সকাল ৯টায় বেনাপোল স্থলবন্দরের কার্গো ভেহিকল টার্মিনাল এলাকায় এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। কর্মসূচিতে স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মচারীরা অংশ নেন।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, দীর্ঘ দুই মাস ধরে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তে হঠাৎ করে অধিকাল ভাতা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে, যা সম্পূর্ণ অযৌক্তিক ও অমানবিক। অথচ একই মন্ত্রণালয়ের অধীন মংলা বন্দর কর্তৃপক্ষ ও চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের কর্মচারীরা অতিরিক্ত সময় কাজের জন্য নিয়মিত অধিকাল ভাতা পাচ্ছেন। সেখানে বেনাপোল স্থলবন্দরের কর্মচারীদের এই ভাতা বন্ধ রাখা বৈষম্যমূলক সিদ্ধান্ত।

বক্তারা আরও বলেন, “কোন যুক্তিতে, কোন নৈতিকতায় হঠাৎ করে আমাদের অধিকাল ভাতা বন্ধ করা হলো—আমরা তা স্পষ্টভাবে জানতে চাই। এই সিদ্ধান্ত কি শ্রম আইন অনুসরণ করে নেওয়া হয়েছে? এটি কি সংবিধানে স্বীকৃত শ্রমিকের অধিকার ও মর্যাদার সঙ্গে সংগতিপূর্ণ? নাকি এটি কর্মচারীদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া এক ধরনের অবিচার?”

মানববন্ধনে বেনাপোল স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের প্রতি প্রশ্ন রেখে কর্মচারীরা বলেন, কাস্টমসের মাধ্যমে যে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব আদায় হয়, তার পেছনে দিন-রাত পরিশ্রম করা বন্দর কর্মচারীদের অবদান অনস্বীকার্য। দেশের অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে বেনাপোল স্থলবন্দর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে, আর সেই ভূমিকার প্রধান অংশীদার হচ্ছেন এখানকার কর্মচারীরা। অথচ অতিরিক্ত সময় কাজের ন্যায্য ভাতা থেকে তাদের বঞ্চিত করা হচ্ছে।

কর্মচারীরা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, অবিলম্বে অধিকাল ভাতা পুনরায় চালু না করা হলে আগামী দিনে আরও কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবেন তারা।

মানববন্ধন চলাকালে কর্মচারীরা স্লোগান দেন—
“দাবি মোদের একটাই, অধিকাল ভাতা পেতে চাই।”

কর্মসূচি থেকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বক্তারা অনতিবিলম্বে অধিকাল ভাতা পুনরায় চালুর দাবি জানান, যাতে কর্মচারীদের মধ্যে কাজের আগ্রহ ও মনোবল ফিরে আসে।