পরিবর্তনের দাবি উঠলেই মানুষকে প্রাণ দিতে হয়েছে – স্থানীয় সরকার মন্ত্রী
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত জুলাই ৩১, ২০২৬, ০৪:৪১ পূর্বাহ্ণ
সংবাদটি শেয়ার করুন....
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে জনগণ যখনই পরিবর্তনের দাবি তুলেছে, তখনই এদেশের মানুষকে প্রাণ দিতে হয়েছে। ভাষা আন্দোলন, মহান মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে সাম্প্রতিক জুলাই গণঅভ্যুত্থান-প্রতিটি পরিবর্তনের পেছনেই রয়েছে মানুষের আত্মত্যাগ। তাই শহিদদের রক্তের মর্যাদা রক্ষা করতে হলে রাষ্ট্র ও সমাজে সত্যিকারের পরিবর্তন নিশ্চিত করতে হবে।
আজ রাজধানীর তথ্য ভবন মিলনায়তনে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে জুলাই শহিদ দিবস উপলক্ষ্যে প্রকাশনার মোড়ক উন্মোচন, আলোকচিত্র প্রদর্শনী ও আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তথ্য প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী এবং পিএসসির সদস্য ড. চৌধুরী সায়মা ফেরদৌস। অনুষ্ঠানের শুরুতে অতিথিরা জুলাই শহিদ দিবস বিষয়ক প্রকাশনার মোড়ক উন্মোচন করেন এবং আলোকচিত্র প্রদর্শনী ঘুরে দেখেন।
স্থানীয় সরকার মন্ত্রী বলেন, পরিবর্তন একটি চলমান ও অনিবার্য প্রক্রিয়া। কিন্তু বাংলাদেশের বাস্তবতায় প্রতিটি ইতিবাচক পরিবর্তনের জন্য জনগণকে জীবন দিতে হয়েছে। স্বাধীনতার পাঁচ দশকেরও বেশি সময় পর যদি পরিবর্তনের দাবিতে আবারও তরুণদের রক্ত দিতে হয়, তবে তা আমাদের জন্য আত্মসমালোচনার বিষয়।
মন্ত্রী বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান প্রমাণ করেছে দেশের তরুণরাই পরিবর্তনের সবচেয়ে বড় শক্তি। তাঁদের আত্মত্যাগকে স্মরণ করেই একটি গণতান্ত্রিক, বৈষম্যহীন, ন্যায়ভিত্তিক ও দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে। শুধু সরকার পরিবর্তন নয়, মানুষের চিন্তা-চেতনা, প্রশাসনিক সংস্কৃতি এবং রাষ্ট্র পরিচালনায়ও ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে হবে। তিনি নিজের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে বলেন, দায়িত্ব গ্রহণের পরও তিনি বিভিন্ন ক্ষেত্রে পুরোনো মানসিকতা ও পরিবর্তনবিমুখ প্রবণতা দেখতে পেয়েছেন। জনগণের প্রত্যাশা পূরণে প্রশাসনকে আরো জনমুখী, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক হতে হবে।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আরো বলেন, শহিদদের আত্মত্যাগ তখনই সার্থক হবে, যখন দেশের প্রতিটি মানুষ নিজ নিজ অবস্থান থেকে সততা, দায়িত্বশীলতা ও দেশপ্রেমের সঙ্গে কাজ করবে। প্রতিশোধ নয়, জাতীয় ঐক্য, সুশাসন ও পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমেই জুলাইয়ের চেতনা বাস্তবায়ন সম্ভব।
সভাপতির বক্তব্যে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা ও অর্জনকে কেন্দ্র করে যেন কেউ কোনো ধরনের ব্যক্তিগত বা রাজনৈতিক ফায়দা হাসিল করতে না পারে, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে যেমন কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর লাভজনক প্রকল্পে পরিণত করা উচিত নয়, তেমনি জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনাকেও কোনো সংকীর্ণ রাজনৈতিক বা ব্যক্তিস্বার্থে ব্যবহার করা যাবে না।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, সমাজে যখনই অন্যায় ও শোষণ বেড়েছে, তখনই জনগণ স্বাধীনতার চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে তার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছে। ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থান সেই ধারাবাহিকতারই সর্বশেষ প্রকাশ। জুলাইয়ের চেতনাকে ধারণ করে ন্যায়, গণতন্ত্র ও মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠায় সবাইকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
তথ্যমন্ত্রী গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার ভূমিকার কথা উল্লেখ করতে গিয়ে বলেন, বেগম খালেদা জিয়াকে নানা ধরনের নির্যাতন ও অপমানের মুখোমুখি হতে হয়েছে। কিন্তু জনগণের ভালোবাসা নিয়ে তাঁর বিদায় বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। জুলাইয়ের চেতনা জাতীয় ঐক্য, গণতন্ত্র এবং জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার চেতনা হিসেবে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে সমুন্নত রাখার আহ্বান জানান তথ্যমন্ত্রী।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন তথ্য ও সম্প্রচার সচিব (রুটিন দায়িত্ব) মোঃ শাহ আলম। অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন প্রেস কাউন্সিলর চেয়ারম্যান বিচারপতি একেএম আব্দুল হাকিম, প্রেসক্লাবের সভাপতি হাসান হাফিজ, বিএফইউজের মহাসচিব কাদের গনি চৌধুরী, প্রতিদিনের বাংলাদেশ সম্পাদক মারুফ কামাল খান ও জুলাইয়ের শহিদ মুগ্ধর ভাই মীর স্নিগ্ধ।