রবীন্দ্রনাথ ও বার্ট্রান্ড রাসেলের ১১৪ বছরের পুরোনো চিঠি প্রকাশ
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত অক্টোবর ১৫, ২০২৬, ০৩:৩৮ পূর্বাহ্ণ
সংবাদটি শেয়ার করুন....
নোবেল পুরস্কারের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে প্রকাশ করা হয়েছে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও ব্রিটিশ দার্শনিক বার্ট্রান্ড রাসেলের মধ্যকার ১১৪ বছরের পুরোনো একটি ঐতিহাসিক চিঠি। ১৯১২ সালে লেখা এই চিঠিতে ধর্ম, উপনিষদ ও মানুষের অসীম সত্তা নিয়ে রবীন্দ্রনাথের দার্শনিক ভাবনার পরিচয় পাওয়া যায়।
বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও ব্রিটিশ দার্শনিক ও যুক্তিবিদ বার্ট্রান্ড রাসেলের মধ্যকার ১১৪ বছরের পুরোনো একটি ঐতিহাসিক চিঠি প্রকাশ করেছে নোবেল পুরস্কারের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ। দুই মনীষীর চিন্তাভাবনার আদান-প্রদানের গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন এই চিঠি প্রকাশের পর সাহিত্য ও দর্শনপ্রেমীদের কাছে নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
নোবেল পুরস্কারের পেজে চিঠিটির ছবি প্রকাশ করে ক্যাপশনে বলা হয়েছে, সাহিত্যে নোবেলজয়ী বার্ট্রান্ড রাসেল ও রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মধ্যকার ১১৪ বছরের পুরোনো এই চিঠিপত্রের দিকে নজর দিতে।
১৯১২ সালের ১৩ অক্টোবর লেখা চিঠিতে রবীন্দ্রনাথ রাসেলকে জানান, তিনি সম্প্রতি তাঁর লেখা ‘দ্য এসেন্স অব রিলিজিয়ন’ প্রবন্ধটি পড়া শেষ করেছেন। রবীন্দ্রনাথের মতে, প্রবন্ধটি তাঁকে সনাতন ধর্মের পবিত্র উপনিষদের একটি শ্লোকের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়েছিল।
উপনিষদ প্রাচীন সংস্কৃত ভাষায় রচিত আধ্যাত্মিক ও দার্শনিক গ্রন্থ, যা হিন্দু ধর্মীয় চিন্তাধারার গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত।
চিঠিতে রবীন্দ্রনাথ রোমান হরফে মূল সংস্কৃত শ্লোকটি উদ্ধৃত করেন। পাশাপাশি এর ইংরেজি অনুবাদ ও দার্শনিক ব্যাখ্যা তুলে ধরেন। তাঁর বক্তব্যের মূল ভাব ছিল, মানুষ যখন নিজের সীমাবদ্ধ সত্তার গণ্ডি অতিক্রম করে অসীমের আনন্দ উপলব্ধি করতে পারে, তখন সে জাগতিক নানা ভয় থেকে মুক্তি লাভ করে।
ঐতিহাসিক তথ্য অনুযায়ী, ১৯১২ সালের শুরুর দিকে ইংল্যান্ড সফরের সময় রবীন্দ্রনাথের সঙ্গে বার্ট্রান্ড রাসেলের ব্যক্তিগত সাক্ষাৎ হয়েছিল। সেই পরিচয়ের সূত্র ধরে দুই মনীষীর মধ্যে চিন্তা ও দর্শনবিষয়ক মতবিনিময়ের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।
এই চিঠি লেখার পরের বছর, ১৯১৩ সালে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন। তিনি ছিলেন সাহিত্যে নোবেলজয়ী প্রথম অ-ইউরোপীয় ব্যক্তি।
অন্যদিকে, ১৯৫০ সালে সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার পান বার্ট্রান্ড রাসেল। দুই নোবেলজয়ীর মধ্যকার এই চিঠি তাঁদের পারস্পরিক বুদ্ধিবৃত্তিক যোগাযোগ এবং দর্শনচর্চার একটি ঐতিহাসিক নিদর্শন হিসেবে গুরুত্ব বহন করে।