শিশু-কিশোরদের বই পড়ার অভ্যাস গড়তে উদ্যোগের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত অক্টোবর ১৫, ২০২৬, ০৩:৪৫ পূর্বাহ্ণ
সংবাদটি শেয়ার করুন....
নতুন প্রজন্মের মধ্যে বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরি, পাঠচক্র ও বই পড়ার প্রতিযোগিতাসহ বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে তরুণদের কাছে দেশের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য তুলে ধরার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।
নতুন প্রজন্মের মধ্যে বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শিশুদের কাছে বই পৌঁছে দিতে ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরি চালুর সম্ভাবনা যাচাইয়ের পাশাপাশি পাঠচক্র ও বই পড়ার প্রতিযোগিতার আয়োজনের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।
বুধবার সচিবালয়ে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় পরিদর্শনকালে কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক সভায় প্রধানমন্ত্রী এসব নির্দেশনা দেন। নিয়মিত কার্যক্রমের অংশ হিসেবে তিনি মন্ত্রণালয়টি পরিদর্শন করেন।
প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব শাহাদাৎ স্বাধীন এ তথ্য জানান।
তিনি জানান, সভায় লালন উৎসব ও নজরুলবর্ষ উপলক্ষে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন কর্মসূচি ও পরিকল্পনা প্রধানমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরা হয়। বিশেষ করে ডিসেম্বর থেকে মে মাস পর্যন্ত অনুষ্ঠেয় শীতকালীন সাংস্কৃতিক উৎসবের জন্য গৃহীত ও প্রস্তাবিত কর্মসূচি সম্পর্কে তাঁকে অবহিত করা হয়।
সভায় জানানো হয়, শীতকালীন সাংস্কৃতিক উৎসবে সার্কাস, গ্রামীণ সংস্কৃতি, নৌকাবাইচ, ঘুড়ি উৎসব, ঘোড়দৌড়, পাপেট শো ও বৈচিত্র্যময় সাংস্কৃতিক আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের অংশগ্রহণেও উৎসব আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
এ ছাড়া জুলাই জাদুঘর, প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর, বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি, বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর, বাংলা একাডেমি, জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্র এবং সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের অধীন বিভিন্ন অধিদপ্তর ও সংশ্লিষ্ট সংস্থার প্রতিনিধিরা তাঁদের চলমান কার্যক্রম ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরেন।
সভায় প্রধানমন্ত্রী শিল্পকলা একাডেমিগুলোকে আরও সক্রিয় করতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার নির্দেশ দেন।
দেশের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য তরুণ প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশের সংস্কৃতি হাজার বছরের পুরোনো। তবে নতুন প্রজন্মের কাছে তা যথাযথভাবে তুলে ধরার ক্ষেত্রে আরও উদ্যোগ প্রয়োজন। প্রযুক্তির প্রভাবে তরুণেরা বিদেশি সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচিত হচ্ছেন এবং সেদিকে আকৃষ্ট হচ্ছেন। কিন্তু এর অর্থ নিজেদের সংস্কৃতি ভুলে যাওয়া নয়।
দেশের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য কীভাবে আরও বেশি করে তরুণদের কাছে পৌঁছে দেওয়া যায়, সে বিষয়ে ভাবার আহ্বান জানান তিনি।
কর্মকর্তাদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রত্যেকেরই নিজস্ব যোগ্যতা রয়েছে। দেশের জন্য কাজ করার সুযোগ কাজে লাগিয়ে সবাইকে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা নিয়ে দায়িত্ব পালন করতে হবে। সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে দেশকে কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
সভায় সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী, সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম, প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান, অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।