• ১৫ই অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ৩০শে আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সার্ক পুনরুজ্জীবন ও বাণিজ্য বাড়াতে নেপালের সহযোগিতা চান মন্ত্রী

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত অক্টোবর ১৫, ২০২৬, ০৩:১৩ পূর্বাহ্ণ
সার্ক পুনরুজ্জীবন ও বাণিজ্য বাড়াতে নেপালের সহযোগিতা চান মন্ত্রী
সংবাদটি শেয়ার করুন....

দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থা (সার্ক) পুনরুজ্জীবিত করা এবং বাংলাদেশ-নেপালের মধ্যে বাণিজ্য সম্প্রসারণে নেপালের সহযোগিতা চেয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ড. আব্দুল মঈন খান।

আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদার ও পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে সম্মিলিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ড. আব্দুল মঈন খান। তিনি বলেছেন, বাণিজ্য ও জলবায়ু পরিবর্তনের মতো বৈশ্বিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলো এককভাবে কথা বলার পরিবর্তে সম্মিলিত অবস্থান নিলে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জন আরও কার্যকর ও ফলপ্রসূ হবে।

আজ সচিবালয়ে মন্ত্রীর দপ্তরে বাংলাদেশে নিযুক্ত নেপালের রাষ্ট্রদূত ঘনশ্যাম ভান্ডারী সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। এ সময় দুই দেশের প্রতিনিধিরা দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক ও পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন এবং ভবিষ্যতে সহযোগিতা বাড়ানোর আশ্বাস দেন।

বৈঠকে বাংলাদেশ ও নেপালের মধ্যে বাণিজ্য সম্প্রসারণের সম্ভাবনা তুলে ধরে মন্ত্রী আঞ্চলিক ও দ্বিপক্ষীয় চুক্তির মাধ্যমে বাণিজ্য বৃদ্ধির আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, আঞ্চলিক বাণিজ্য বাড়লে প্রতিবেশী দেশগুলো তুলনামূলক সুবিধা পাবে, পরিবহন ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে এবং পণ্যের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করা সহজ হবে। এতে সাধারণ মানুষের প্রকৃত আয় বাড়ার পাশাপাশি জীবনযাত্রার মান উন্নত হবে। একই সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় ও আঞ্চলিক পর্যায়ে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করলে দেশীয় শিল্প ও অর্থনীতি সুরক্ষিত রাখাও সহজ হবে।

সাক্ষাৎকালে নেপালের রাষ্ট্রদূত ঘনশ্যাম ভান্ডারী বলেন, রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক, প্রাকৃতিক ও অর্থনৈতিক দিক থেকে বাংলাদেশ ও নেপালের মধ্যে উল্লেখযোগ্য মিল রয়েছে। দুই দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতিও অনেকটা একই রকম।

শিক্ষাক্ষেত্রে সহযোগিতা সম্প্রসারণের সম্ভাবনা তুলে ধরে রাষ্ট্রদূত জানান, বর্তমানে বাংলাদেশে আড়াই হাজারের বেশি নেপালি শিক্ষার্থী চিকিৎসাবিদ্যায় পড়াশোনা করছেন। এ ক্ষেত্রে দুই দেশের সহযোগিতা আরও বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে।

এ ছাড়া নেপালে সম্প্রতি সংঘটিত বন্যার ক্ষয়ক্ষতি তুলে ধরে রাষ্ট্রদূত জানান, বন্যাদুর্গত এলাকাগুলোর পুনর্নির্মাণে প্রায় ৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার প্রয়োজন। এ পরিস্থিতিতে তিনি বাংলাদেশের সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেন।

জবাবে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী ড. আব্দুল মঈন খান বলেন, নেপাল বাংলাদেশের বিশ্বস্ত ও পরীক্ষিত বন্ধু রাষ্ট্র। বাংলাদেশ সব সময় নেপালের পাশে রয়েছে এবং যেকোনো প্রয়োজনে সম্ভাব্য সব ধরনের সহায়তা প্রদান করবে।

সাক্ষাৎকালে উভয় পক্ষ বাংলাদেশ ও নেপালের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করা এবং সহযোগিতার ক্ষেত্র বহুমুখী করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।