• ১৫ই অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ৩০শে আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বাংলাদেশ-কিরগিজস্তান অর্থনৈতিক সহযোগিতা বাড়াতে দুই দেশের অঙ্গীকার

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত অক্টোবর ১৪, ২০২৬, ০০:৩৪ পূর্বাহ্ণ
বাংলাদেশ-কিরগিজস্তান অর্থনৈতিক সহযোগিতা বাড়াতে দুই দেশের অঙ্গীকার
সংবাদটি শেয়ার করুন....

দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদার, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ এবং শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও প্রযুক্তি খাতে সহযোগিতা বাড়াতে অঙ্গীকার করেছে বাংলাদেশ ও কিরগিজস্তান। বিশকেকে দুই দেশের দ্বিতীয় দফা পররাষ্ট্র দপ্তর পর্যায়ের আলোচনায় এসব বিষয়ে একমত হন উভয় পক্ষের প্রতিনিধিরা।

বাংলাদেশ ও কিরগিজস্তানের মধ্যে অর্থনৈতিক সহযোগিতা সম্প্রসারণ, উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগ বৃদ্ধি এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বিষয়ে সমন্বয় জোরদারের অঙ্গীকার করা হয়েছে। বিশকেকে অনুষ্ঠিত দুই দেশের দ্বিতীয় দফা পররাষ্ট্র দপ্তর পর্যায়ের আলোচনায় (এফওসি) এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

ঢাকায় প্রাপ্ত এক বার্তায় জানানো হয়, আলোচনায় বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন পররাষ্ট্র সচিব রাষ্ট্রদূত আসাদ আলম সিয়াম। কিরগিজস্তানের পক্ষে নেতৃত্ব দেন দেশটির উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কাইরাত তুরসুনকুলভ। উজবেকিস্তানে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত ড. এম মনিরুল ইসলামও প্রতিনিধিদলে ছিলেন।

বৈঠকে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, শিক্ষা, বৃত্তি, শ্রমিকদের কর্মসংস্থান, ব্যবসায়ী পর্যায়ে যোগাযোগ, সংসদীয় আদান-প্রদান, উচ্চপর্যায়ের সফর, তথ্যপ্রযুক্তি, প্রযুক্তি হস্তান্তর, সংস্কৃতি, পর্যটন, জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধি এবং ভিসা সহজীকরণসহ দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়।

এ সময় দুই দেশের ফরেন সার্ভিস একাডেমির মধ্যে সহযোগিতাবিষয়ক একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। পাশাপাশি ২০২৬-২০২৭ মেয়াদে দুই দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মপরিকল্পনা নিয়ে আরেকটি সমঝোতা স্মারক সই করা হয়। পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে বাস্তবভিত্তিক সহযোগিতা এগিয়ে নেওয়াই এসব উদ্যোগের লক্ষ্য।

২০২৭ সালে বাংলাদেশ ও কিরগিজস্তানের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার ৩৫তম বার্ষিকী উদযাপনের বিষয়েও দুই পক্ষ সম্মত হয়েছে। রাজনৈতিক যোগাযোগ বাড়াতে পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকসহ উচ্চপর্যায়ের সফর বিনিময়ের উদ্যোগ নেওয়ার ব্যাপারেও একমত হন প্রতিনিধিরা।

জাতিসংঘ, ইসলামি সহযোগিতা সংস্থা (ওআইসি) এবং সাংহাই সহযোগিতা সংস্থাসহ (এসসিও) বিভিন্ন আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক ফোরামে সহযোগিতা সম্প্রসারণের বিষয়েও আলোচনা হয়।

বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। অন্যদিকে, কিরগিজস্তান ২০২৭-২০২৮ মেয়াদে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের অস্থায়ী সদস্য হওয়ার লক্ষ্যে এগোচ্ছে। এ প্রেক্ষাপটে গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক ইস্যুতে ঘনিষ্ঠ সমন্বয় ও পারস্পরিক সহযোগিতা বজায় রাখার অঙ্গীকার করে দুই দেশ।

বাণিজ্য ও বিনিয়োগের সম্ভাবনা কাজে লাগাতে বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণ বাড়ানো এবং ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদল বিনিময়ের বিষয়ে সম্মত হয়েছে উভয় পক্ষ। বস্ত্র, তৈরি পোশাক, ওষুধশিল্প ও তথ্যপ্রযুক্তিকে সহযোগিতা সম্প্রসারণের সম্ভাবনাময় খাত হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।

আলোচনায় ইউরেশীয় অঞ্চলের ভূকৌশলগত গুরুত্ব এবং ১৮ কোটিরও বেশি মানুষের বাজারের বিষয়টি উঠে আসে। এ অঞ্চলে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সম্পৃক্ততা বাড়ানো এবং বৃহত্তর আঞ্চলিক বাজারে প্রবেশের সুযোগ কাজে লাগানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। সরকার, ব্যবসায়ী ও বেসরকারি খাতের অংশীদারত্বের মাধ্যমে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে আশাবাদ জানায় কিরগিজ প্রতিনিধিদল।

শিক্ষা, খেলাধুলা, পর্যটন, সাংস্কৃতিক বিনিময় ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সম্প্রসারণের মাধ্যমে দুই দেশের জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনা হয়। কিরগিজস্তানে দক্ষ ও আধা-দক্ষ বাংলাদেশি কর্মীদের কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা নিয়ে মতবিনিময় করেন প্রতিনিধিরা। এ ক্ষেত্রে তৈরি পোশাক, ওষুধশিল্প ও তথ্যপ্রযুক্তি খাতকে সম্ভাবনাময় হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের কিরগিজস্তানে উচ্চশিক্ষা গ্রহণের সুযোগ, বিশেষ করে মেডিকেল কলেজে পড়াশোনার সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা হয়। শিক্ষার্থীদের যাতায়াত ও ভর্তি প্রক্রিয়ায় নিয়মিত ও বৈধ ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্বারোপ করে কিরগিজ প্রতিনিধিদল।

এ ছাড়া কূটনৈতিক ও সরকারি পাসপোর্টধারীদের ভিসা অব্যাহতি, দুই দেশের শীর্ষ বাণিজ্য সংগঠনগুলোর মধ্যে সহযোগিতা, কৃষি, বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক, সংস্কৃতি, পর্যটন, বিনিয়োগ সুরক্ষা এবং শিল্প সহযোগিতাসহ বিভিন্ন বিষয়ে প্রস্তাবিত চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক নিয়ে আলোচনা হয়।

আলোচনা শেষে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম কিরগিজস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জিনবেক কুলুবায়েভের সঙ্গে বৈঠক করেন। এ সময় তাঁরা পারস্পরিক সুবিধার জন্য দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় পর্যায়ে সহযোগিতা আরও গভীর করার উপায় নিয়ে আলোচনা করেন।

কুলুবায়েভ গত সেপ্টেম্বরে নিউইয়র্কে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের সঙ্গে তাঁর বৈঠকের কথা স্মরণ করেন। একই সঙ্গে উভয় পক্ষের সুবিধাজনক সময়ে ড. খলিলুর রহমানকে কিরগিজস্তান সফরের আমন্ত্রণ জানান।

পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম ২০৩১-২০৩২ মেয়াদে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ এবং ২০২৮-২০৩০ মেয়াদে মানবাধিকার কাউন্সিলে বাংলাদেশের প্রার্থিতার পক্ষে কিরগিজস্তানের সমর্থন কামনা করেন। বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনেও তিনি দেশটির সহযোগিতা চান।

অন্যদিকে, ২০২৭-২০২৮ মেয়াদে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের অস্থায়ী সদস্য নির্বাচনে কিরগিজস্তানকে সমর্থন দেওয়ায় বাংলাদেশের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন জিনবেক কুলুবায়েভ।

দুই দেশের প্রতিনিধিরা আশা প্রকাশ করেন, দ্বিতীয় দফার এই আলোচনা বাস্তবভিত্তিক ও ফলাফলমুখী সহযোগিতা এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে আরও শক্তিশালী ভিত্তি তৈরি করবে। উভয় পক্ষের সুবিধাজনক সময়ে ঢাকায় পররাষ্ট্র দপ্তর পর্যায়ের তৃতীয় দফা আলোচনা আয়োজনের বিষয়েও সম্মত হয়েছেন তাঁরা।