• ২৮শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ১৩ই আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কৃষকদের স্বার্থে জাতীয় পর্যায়ে কেন্দ্রীয় সংগঠন গড়ার আহ্বান রাষ্ট্রপতির

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২৬, ২৩:৩৩ অপরাহ্ণ
কৃষকদের স্বার্থে জাতীয় পর্যায়ে কেন্দ্রীয় সংগঠন গড়ার আহ্বান রাষ্ট্রপতির
সংবাদটি শেয়ার করুন....

দল-মত-পথ নির্বিশেষে কৃষকদের সামগ্রিক উন্নয়ন ও সার্বিক স্বার্থ সংরক্ষণে জাতীয় পর্যায়ে কৃষকদের একটি কেন্দ্রীয় সংগঠন গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

রোববার দুপুরে বঙ্গভবনে বাংলাদেশ কৃষক সমিতির সভাপতি মো. সিদ্দিকুর রহমান কুল ময়েজের নেতৃত্বে আট সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি এ আহ্বান জানান। রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব মো. সরওয়ার আলম এ তথ্য জানিয়েছেন।

সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতি বলেন, কৃষকরাই দেশের মূল শক্তি এবং দেশ গড়ার যোদ্ধা। কৃষকদের সম্মান জানাতে ও উৎসাহিত করতে কৃষি ক্ষেত্রে নতুন উদ্ভাবন এবং অসামান্য অবদানের জন্য ‘রাষ্ট্রপতি কৃষি পুরস্কার’ চালুর উদ্যোগ নেওয়া হবে।

তিনি কৃষকদের সর্বাঙ্গীণ সহযোগিতার আশ্বাস দিয়ে কৃষি ও বাণিজ্য মন্ত্রীসহ সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেন। পাশাপাশি কৃষকদের স্বার্থকে একটি আন্দোলনে পরিণত করার আহ্বান জানান।

রাষ্ট্রপতি বলেন, দেশের অন্যতম ইতিবাচক খাত হলো কৃষি। কৃষকের পরিশ্রম, নতুন উচ্চফলনশীল জাত উদ্ভাবন, কৃষি প্রযুক্তির উন্নয়ন ও যথাযথ ব্যবহারের ফলে দেশে ফসল উৎপাদন বহুগুণ বেড়েছে। কৃষকেরা দুর্নীতি না করে সমাজ ও রাষ্ট্রের অগ্রগতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্য না পাওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, কৃষিপণ্য ও শস্য যাতে সহজে ভোক্তার কাছে পৌঁছাতে পারে এবং কৃষক যাতে উৎপাদিত পণ্যের সঠিক মূল্য পান, সে জন্য কার্যকর বিপণন ব্যবস্থা গড়ে তোলা প্রয়োজন।

এ বিষয়ে কৃষকদের আরও উদ্যোগী, সচেতন ও সজাগ হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

রাষ্ট্রপতি বলেন, কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা ও কৃষকদের উন্নয়নে বর্তমান সরকার নতুন একটি স্কিম চালু করেছে। এর আওতায় ইতোমধ্যে ৩ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

তিনি জানান, বর্তমান সরকার কৃষকদের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত সুদসহ কৃষিঋণ মওকুফ করেছে। পাশাপাশি সহজ শর্তে কম সুদে কৃষিঋণের ব্যবস্থা করাসহ কৃষি ও কৃষকের উন্নয়নে সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা তুলে ধরেন তিনি। এসব উদ্যোগের সুফল কৃষকেরা অচিরেই পাবেন বলে আশা প্রকাশ করেন রাষ্ট্রপতি।

সাক্ষাৎকালে প্রতিনিধি দল কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত, বিনা সুদে ঋণ সুবিধা, কৃষক দিবস উদযাপন, কৃষকদের জাতীয় পুরস্কার প্রদান, শস্যবীমা চালু, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক কমিটিতে কৃষকদের প্রতিনিধিত্ব এবং বজ্রপাত ও সাপের কামড় থেকে কৃষকদের সুরক্ষাসহ বিভিন্ন দাবি রাষ্ট্রপতির কাছে তুলে ধরেন।

এ ছাড়া কৃষি উপকরণের সুলভ সরবরাহ নিশ্চিত করার বিষয়েও তারা দাবি জানান।

রাষ্ট্রপতি বলেন, দেশে উৎপাদিত ফলমূল ও কৃষিজাত পণ্যের বিদেশে ব্যাপক চাহিদা রয়েছে এবং এ খাতে বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে। আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে কৃষিপণ্য ও প্রক্রিয়াজাত খাদ্যপণ্য রপ্তানিতে এগিয়ে আসতে তিনি কৃষক সমিতির সদস্যদের প্রতি আহ্বান জানান।

তিনি কৃষি প্রক্রিয়াজাত শিল্প-কারখানা ও আধুনিক হিমাগার স্থাপনে উদ্যোগ নেওয়ার পাশাপাশি খামারে আধুনিক সোলার প্যানেল ব্যবহারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

এ সময় এনজিও থেকে নেওয়া কৃষিঋণের সুদের হার কমানোর বিষয়েও উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস দেন রাষ্ট্রপতি।

সাক্ষাৎকালে কৃষক সমিতির সভাপতি জানান, ঈশ্বরদীতে কৃষিক্ষেত্রে অবদানের জন্য ৭০ বছরের বেশি বয়সী কৃষকদের সংবর্ধনা এবং আধুনিক কৃষিপণ্য প্রদর্শন ও বাণিজ্যিকীকরণে মেলার আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি মেলায় প্রধান অতিথি হিসেবে রাষ্ট্রপতিকে অংশ নেওয়ার আমন্ত্রণ জানান। রাষ্ট্রপতি অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার আগ্রহ প্রকাশ করেন।

সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতির সচিবরা উপস্থিত ছিলেন। বাংলাদেশ কৃষক সমিতির প্রতিনিধি দলের অন্যান্য সদস্য ছিলেন মো. আব্দুল জলিল, মো. হাসান আলী, মোছা. বেলী বেগম, মো. আবু তালেব জোয়াদ্দার, মো. হাফিজুর রহমান মুকুল, তোফাজ্জল হোসাইন (পল্টি) ও শওকত আলম।