মডার্নার তৈরি ব্যক্তিভিত্তিক এমআরএনএ ক্যান্সার টিকার তৃতীয় ধাপের আন্তর্জাতিক ক্লিনিক্যাল পরীক্ষায় আশাব্যঞ্জক ফল পাওয়া গেছে। গবেষণায় দেখা গেছে, পেমব্রোলিজুমাব নামের ইমিউনোথেরাপি ওষুধের সঙ্গে টিকাটি প্রয়োগ করলে দুই বছর পরও ৮২ শতাংশ রোগীর ক্যান্সার ফিরে আসেনি। এ চিকিৎসায় ক্যান্সার পুনরায় ফিরে আসা বা মৃত্যুর সম্মিলিত ঝুঁকি ৪২ শতাংশ পর্যন্ত কমেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
ক্যান্সার চিকিৎসায় নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে যুক্তরাষ্ট্রের ওষুধ প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান মডার্নার তৈরি ব্যক্তিভিত্তিক টিকা। ‘ইনটিসমেরান’ (Intismeran) নামের এ টিকাটি এমআরএনএ প্রযুক্তিনির্ভর থেরাপিউটিক টিকা। তৃতীয় ধাপের আন্তর্জাতিক ক্লিনিক্যাল পরীক্ষায় পাওয়া ফলাফলে ক্যান্সারের পুনরাবৃত্তি ঠেকানোর ক্ষেত্রে আশাব্যঞ্জক অগ্রগতির ইঙ্গিত মিলেছে।
গবেষণায় টিকাটি পেমব্রোলিজুমাব (Pembrolizumab) নামের একটি ইমিউনোথেরাপি ওষুধের সঙ্গে প্রয়োগ করা হয়। পরীক্ষার ফল অনুযায়ী, চিকিৎসা নেওয়ার দুই বছর পরও ৮২ শতাংশ রোগীর ক্যান্সার ফিরে আসেনি। এ ছাড়া প্রায় ৮৮ দশমিক ৫ শতাংশ রোগীর ক্ষেত্রে দুই বছরের মধ্যে ক্যান্সার শরীরের অন্য অংশে ছড়িয়ে পড়েনি।
গবেষণায় আরও দেখা গেছে, টিকা ও ইমিউনোথেরাপির সমন্বিত চিকিৎসায় ক্যান্সার পুনরায় ফিরে আসা বা মৃত্যুর সম্মিলিত ঝুঁকি ৪২ শতাংশ পর্যন্ত কমেছে। তবে এসব ফলাফল নির্দিষ্ট গবেষণায় অংশ নেওয়া রোগীদের ক্ষেত্রে পাওয়া গেছে; অন্যান্য ধরনের ক্যান্সারে এর কার্যকারিতা নিশ্চিত করতে আরও গবেষণার প্রয়োজন।
গবেষণার প্রধান অনুসন্ধানকারী অধ্যাপক জর্জিনা লং দ্য অস্ট্রেলিয়ান পত্রিকাকে বলেন, এ সাফল্যকে প্রথমবারের মতো উড়োজাহাজের উড্ডয়নের সঙ্গে তুলনা করা যায়। তাঁর মতে, এর প্রভাব তাৎপর্যপূর্ণ হতে পারে। মেলানোমা বা এক ধরনের ত্বকের ক্যান্সারের চিকিৎসার পাশাপাশি ভবিষ্যতে অন্যান্য ক্যান্সারের ক্ষেত্রেও এ প্রযুক্তি নতুন সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে।
ব্যক্তিভিত্তিক এমআরএনএ টিকার মূল ধারণা হলো, রোগীর ক্যান্সারের বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী শরীরের রোগপ্রতিরোধব্যবস্থাকে ক্যান্সার কোষ শনাক্ত করতে ও তার বিরুদ্ধে প্রতিক্রিয়া গড়ে তুলতে সহায়তা করা। তবে টিকাটির কার্যকারিতা, নিরাপত্তা এবং বিভিন্ন ধরনের ক্যান্সারে এর ব্যবহার সম্পর্কে আরও তথ্য প্রয়োজন।
চলতি সপ্তাহের শেষে ইউরোপিয়ান সোসাইটি ফর মেডিক্যাল অনকোলজির (ইএসএমও) বার্ষিক সম্মেলনে গবেষণাটির বিস্তারিত ফলাফল আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করার কথা রয়েছে। সেখানে পূর্ণাঙ্গ তথ্য প্রকাশিত হলে চিকিৎসাটির সম্ভাবনা ও সীমাবদ্ধতা সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে।