• ১৫ই অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ৩০শে আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

গ্রাম-শহরের সব শিশুকে টিকার আওতায় আনার উদ্যোগ: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত অক্টোবর ১৫, ২০২৬, ০৩:১৬ পূর্বাহ্ণ
গ্রাম-শহরের সব শিশুকে টিকার আওতায় আনার উদ্যোগ: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
সংবাদটি শেয়ার করুন....

সংক্রামক রোগ প্রতিরোধে গ্রাম ও শহরের প্রতিটি শিশুর জন্য শতভাগ টিকাদান নিশ্চিত করার কথা জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।

দেশের কোনো শিশু যেন টিকাদান কর্মসূচির বাইরে না থাকে, তা নিশ্চিত করতে মাঠপর্যায়ের কর্মীদের প্রতিটি বাড়ি ও মহল্লায় গিয়ে কাজ করার নির্দেশনা দিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।

আজ বুধবার রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে ‘বাংলাদেশে ইপিআই ও ভিপিডি সার্ভেইলেন্সের যৌথ স্বাধীন পর্যালোচনা ২০২৬-এর ফলাফল অবহিতকরণ’ শীর্ষক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, গ্রাম ও শহরের মধ্যে টিকাদানের বৈষম্য দূর করতে হবে। শুধু নির্ধারিত টিকাদান কেন্দ্রে কার্যক্রম পরিচালনা করলেই চলবে না। বাড়ি বাড়ি গিয়ে টিকা পাওয়ার উপযোগী শিশুদের চিহ্নিত করে কর্মসূচির আওতায় আনতে হবে। দুর্গম ও প্রত্যন্ত অঞ্চলের প্রতিটি শিশুর কাছে টিকা পৌঁছে দিয়ে শতভাগ টিকাদান নিশ্চিত করতে হবে।

টিকার গুণগত মান বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, টিকা সংরক্ষণের ক্ষেত্রে শীতল সরবরাহব্যবস্থা বা কোল্ড চেইন যথাযথভাবে অনুসরণ করা হচ্ছে কি না, তা নিয়মিত তদারকি করতে হবে। টিকার সরবরাহ থেকে শুরু করে প্রয়োগ পর্যন্ত প্রতিটি পর্যায়ে এর গুণগত মান নিশ্চিত করা জরুরি।

সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে বিভিন্ন সংক্রামক রোগ ও মহামারি থেকে সুরক্ষিত রাখতে টিকাদান কর্মসূচির কোনো বিকল্প নেই। ১৯৭৯ সাল থেকে বাংলাদেশে সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি (ইপিআই) শিশুদের বিভিন্ন মারাত্মক রোগ থেকে রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে।

এ কর্মসূচি বাস্তবায়নে গ্যাভি, ইউনিসেফ ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাসহ আন্তর্জাতিক সহযোগী সংস্থাগুলোর অবদানের কথাও তুলে ধরেন তিনি।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার বলেন, প্রান্তিক জনগোষ্ঠী থেকে শুরু করে শহরের বাসিন্দা—সবার জন্য মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে সরকার স্বাস্থ্য খাতে সংস্কার কার্যক্রম গ্রহণ করছে।

তিনি জানান, এ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে দেশের প্রতিটি ইউনিয়ন এবং শহরের প্রতিটি ওয়ার্ডে পৃথক প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা ইউনিট গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।

জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে আরও এক লাখ ‘কমিউনিটি হেলথ অ্যান্ড ওয়েলবিং কর্মী’ নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলেও জানান তিনি।

কর্মশালায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বাংলাদেশের উপপ্রতিনিধি ডা. রাজেশ নরওয়েল, ইউনিসেফ বাংলাদেশের ভারপ্রাপ্ত প্রতিনিধি জিলিয়ান মেলসপসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।