সম্পূর্ণভাবে জানা যায়নি। তবে অনেক ক্ষেত্রে শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণ বা ডায়রিয়ার কয়েক দিন থেকে কয়েক সপ্তাহ পর এই রোগ দেখা দেয়। বিশেষ করে ক্যাম্পাইলোব্যাক্টার জেজুনি নামক ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণের সঙ্গে জিবিএসের সম্পর্ক রয়েছে। সংক্রমণের পর শরীরের রোগ প্রতিরোধব্যবস্থা ভুলবশত নিজের পেরিফেরাল স্নায়ুকে আক্রমণ করে। ফলে স্নায়ুর মাইলিন আবরণ অথবা অ্যাক্সন ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে এবং মস্তিষ্ক থেকে পেশিতে সংকেত পৌঁছানোর স্বাভাবিক প্রক্রিয়া ব্যাহত হয়।
জিবিএসের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ধরন রয়েছে। অ্যাকিউট ইনফ্ল্যামেটরি ডিমাইলিনেটিং পলির্যাডিকুলোনিউরোপ্যাথি (AIDP) হলো এমন একটি ধরন, যেখানে স্নায়ুর মাইলিন আবরণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। অ্যাকিউট মোটর অ্যাক্সোনাল নিউরোপ্যাথি (AMAN) প্রধানত মোটর স্নায়ুর অ্যাক্সনকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অ্যাকিউট মোটর-সেনসরি অ্যাক্সোনাল নিউরোপ্যাথি (AMSAN) মোটর ও সেনসরি উভয় ধরনের স্নায়ুতন্তুকে আক্রান্ত করে। অন্যদিকে, মিলার ফিশার সিনড্রোমে চোখের নড়াচড়ার দুর্বলতা, শরীরের ভারসাম্যহীনতা এবং টেন্ডন রিফ্লেক্স কমে যাওয়া বা অনুপস্থিত থাকার মতো লক্ষণ দেখা দিতে পারে।
জিবিএসের প্রধান লক্ষণ হলো ক্রমশ বাড়তে থাকা পেশিদুর্বলতা। সাধারণত পায়ে দুর্বলতা শুরু হয়ে ওপরের দিকে ছড়িয়ে পড়তে পারে, যদিও সব রোগীর ক্ষেত্রে একই ধরনের লক্ষণ দেখা যায় না। রোগীর হাত-পায়ে ঝিনঝিন অনুভূতি, অসাড়তা, পেশিতে ব্যথা, হাঁটতে অসুবিধা এবং টেন্ডন রিফ্লেক্স কমে যাওয়া বা অনুপস্থিত থাকার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। গুরুতর অবস্থায় মুখের পেশি দুর্বল হয়ে যাওয়া, কথা বলা ও গিলতে অসুবিধা, শ্বাসপ্রশ্বাসের পেশি দুর্বল হয়ে শ্বাসকষ্ট এবং হৃদস্পন্দন ও রক্তচাপের অস্বাভাবিকতা দেখা দিতে পারে।
এক্ষেত্রে ফিজিওথেরাপি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে