২০২৭ সালের মধ্যে সড়ক নিরাপত্তা আইন প্রণয়নের অঙ্গীকার সরকারের
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত অক্টোবর ১৫, ২০২৬, ০৩:১৮ পূর্বাহ্ণ
সংবাদটি শেয়ার করুন....
সড়ক দুর্ঘটনা কমানো ও নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে ২০২৭ সালের মধ্যে সমন্বিত সড়ক নিরাপত্তা আইন প্রণয়নে সরকার প্রতিজ্ঞাবদ্ধ বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।
দেশে সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সমন্বিত আইন প্রণয়নসহ বিভিন্ন পদক্ষেপ নিচ্ছে সরকার। এর মধ্যে রয়েছে হেলমেটের মান হালনাগাদ, গতিসীমা কার্যকর করা, দুর্ঘটনার পর চিকিৎসাসেবা জোরদার, আন্ডারপাস নির্মাণ, মহাসড়কে বামদিকের লেন তৈরি এবং সড়ক দুর্ঘটনার তথ্য ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন।
আজ রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে জাতীয় সড়ক নিরাপত্তা দিবস ২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত এক গোলটেবিল বৈঠকে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। ‘বাংলাদেশে সড়ক নিরাপত্তা উন্নয়নে সরকারের অঙ্গীকার’ শীর্ষক এ বৈঠকের আয়োজন করে ব্র্যাকের রোড সেফটি প্রোগ্রাম ও রোড সেফটি কোয়ালিশন বাংলাদেশ।
মন্ত্রী বলেন, সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার ও বিশ্বব্যাংকসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান কাজ করছে। তবে শুধু নির্দিষ্ট কোনো দিবসকে কেন্দ্র করে কর্মসূচি পালন করলে হবে না; সারা বছর কার্যকর উদ্যোগ অব্যাহত রাখতে হবে।
তিনি আরও বলেন, ২০৩০ সালের মধ্যে সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যুর হার অর্ধেকে নামিয়ে আনতে সরকার, বেসরকারি সংস্থা, উন্নয়ন সহযোগী, পরিবহন মালিক-শ্রমিক সংগঠনসহ সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।
এবারের জাতীয় সড়ক নিরাপত্তা দিবসের প্রতিপাদ্য ‘নিরাপদ সড়ক সমৃদ্ধ দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’। এ প্রতিপাদ্য সামনে রেখে আয়োজিত বৈঠকে দেশের সড়ক নিরাপত্তা পরিস্থিতি, এ বিষয়ে সরকারের জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অঙ্গীকার, সাম্প্রতিক অগ্রগতি এবং ভবিষ্যৎ করণীয় নিয়ে আলোচনা হয়।
সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যু ও গুরুতর আহতের সংখ্যা কমাতে নিরাপদ সড়ক ব্যবস্থা বা ‘সেফ সিস্টেম অ্যাপ্রোচ’ বাস্তবায়নের ওপর বৈঠকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়।
সড়কের অবকাঠামোগত নিরাপত্তা বাড়াতে আন্ডারপাস নির্মাণ ও মহাসড়কে বামদিকের লেন তৈরির প্রকল্প নেওয়া হচ্ছে বলে জানান মন্ত্রী। পাশাপাশি স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের নিরাপদে সড়ক পারাপার নিশ্চিত করা এবং দুর্ঘটনাসংক্রান্ত তথ্য সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনার মান উন্নয়নে কাজ চলছে।
এসব উদ্যোগ কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন তিনি।
গোলটেবিল বৈঠকে বিশেষ অতিথি ছিলেন শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস এমপি, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব ড. মোহাম্মদ জিয়াউল হক এবং বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের সচিব শরফ উদ্দিন আহমদ চৌধুরী।
বৈঠকে রোড সেফটি কোয়ালিশন বাংলাদেশের সদস্য প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতিনিধি, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, পুলিশ ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তা, বিশ্বব্যাংক ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিনিধি, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও গবেষক, সড়ক নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ এবং গণমাধ্যমকর্মীরা অংশ নেন। এ ছাড়া গ্লোবাল হেলথ অ্যাডভোকেসি ইনকিউবেটরের (জিএইচএআই) কান্ট্রি কো-অর্ডিনেটরসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।