জনস্বার্থ বিবেচনায় উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণের নির্দেশ এলজিআরডি মন্ত্রীর
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত অক্টোবর ১৪, ২০২৬, ০০:৩১ পূর্বাহ্ণ
সংবাদটি শেয়ার করুন....
জনস্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ এবং বাস্তবায়নের আগে সম্ভাব্যতা যথাযথভাবে যাচাই করার নির্দেশ দিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান। তিনি বলেছেন, প্রকল্পের সুফল যেন সর্বাধিক মানুষের কাছে পৌঁছায়, সে অনুযায়ী পরিকল্পনা করতে হবে।
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান বলেছেন, উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণের ক্ষেত্রে জনস্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হবে। পাশাপাশি প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাই করে এমন পরিকল্পনা নিতে হবে, যাতে বেশি মানুষ এর সুফল ভোগ করতে পারেন।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) সচিবালয়ে জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থার (জাইকা) চিফ রিপ্রেজেনটেটিভ জুনকো তাকাহাশির সঙ্গে বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন। বৈঠকে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের অধীন জাইকার চলমান প্রকল্পগুলোর অগ্রগতি এবং ভবিষ্যতে সহযোগিতা সম্প্রসারণের বিষয়ে আলোচনা হয়।
মন্ত্রী বলেন, জাপান বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ উন্নয়ন সহযোগী। দেশের উন্নয়নে জাপানের ক্রমবর্ধমান সহযোগিতার জন্য তিনি জাইকাকে ধন্যবাদ জানান। একই সঙ্গে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্ষমতা বাড়াতে নতুন প্রকল্প গ্রহণ এবং সহযোগিতার পরিধি সম্প্রসারণের আহ্বান জানান।
উন্নয়ন প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের গুরুত্ব বোঝাতে মেট্রোরেল প্রকল্পের উদাহরণ দেন ড. আবদুল মঈন খান। তিনি বলেন, মেট্রোরেল টঙ্গী বা জয়দেবপুর পর্যন্ত সম্প্রসারণ করা গেলে আরও বেশি মানুষ এ সেবার সুবিধা পেতেন। এ ছাড়া হাওর অঞ্চলের উন্নয়নে গৃহীত প্রকল্পগুলোর সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের ক্ষেত্রে আরও সতর্ক হওয়ার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
বৈঠকে জাইকার পক্ষ থেকে জানানো হয়, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে কমিউনিটি সেবা, পানি সরবরাহ, পয়ঃনিষ্কাশন, আঞ্চলিক উন্নয়ন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও হাওর অঞ্চলের উন্নয়নসহ বিভিন্ন খাতে প্রকল্প বাস্তবায়ন চলছে। এসব ক্ষেত্রে ভবিষ্যতে সহযোগিতা আরও বাড়ানোর আশ্বাস দেন জাইকার চিফ রিপ্রেজেনটেটিভ জুনকো তাকাহাশি।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) মাধ্যমে বাস্তবায়নাধীন আরবান ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড সিটি গভর্নেন্স প্রজেক্ট (ইউডিসিজিপি) এবং সাউদার্ন চট্টগ্রাম রিজিওনাল ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্টের (এসসিআরডিপি) অগ্রগতি বৈঠকে তুলে ধরা হয়। এ সময় নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রকল্পগুলোর কাজ দ্রুত শেষ করার নির্দেশ দেন মন্ত্রী।
এ ছাড়া স্থানীয় সরকার বিভাগের মাধ্যমে দেশের সব উপজেলায় বাস্তবায়নের জন্য গৃহীতব্য উপজেলা গভর্নেন্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট ফেজ-টু (ইউজিডিপি-টু) কার্যক্রমে সর্বোচ্চ সহযোগিতার আশ্বাস দেওয়া হয়।
স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, দেশে গণতন্ত্রকে সুদৃঢ় করতে হলে তৃণমূল পর্যায়ে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে হবে। এ জন্য স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্ষমতা বাড়ানোর বিকল্প নেই। স্থানীয় পর্যায়ে জাইকার বাস্তবায়িত ও সমাপ্ত বিভিন্ন প্রকল্পের জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে এ ধরনের উদ্যোগ আরও সম্প্রসারণের আহ্বান জানান তিনি।
উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণের প্রক্রিয়া কার্যকর করা এবং বিভিন্ন উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার মধ্যে সমন্বয় বাড়াতে দাতা সংস্থার প্রতিনিধি ও মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে একটি কমিটি গঠনের নির্দেশ দেন মন্ত্রী। বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের পরিকল্পনা ও সংশ্লিষ্ট কার্যক্রমের মধ্যে সমন্বয় সাধন করবে এ কমিটি।
বৈঠকে জাইকার সিনিয়র রিপ্রেজেনটেটিভ মরিকাওয়া ইয়োকো, লোকাল গভর্নেন্স উপদেষ্টা আকিরা মুনাকাতা, পরিকল্পনা, পরিবীক্ষণ, মূল্যায়ন ও পরিদর্শন অনুবিভাগের মহাপরিচালক শিবির বিচিত্র বড়ুয়াসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।