হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন অবরোধ ভারতের সমস্যা আরও বাড়াবে?
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত এপ্রিল ১৫, ২০২৬, ১২:০২ অপরাহ্ণ
সংবাদটি শেয়ার করুন....
ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা দিয়েছেন যে হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে ইরানের বন্দরগামী জাহাজগুলোর ওপর মার্কিন অবরোধ কার্যকর হয়েছে। এর আগে তিনি সতর্ক করেছিলেন, কোনো ‘হামলাকারী’ জাহাজ অবরোধের কাছাকাছি এলে তা ধ্বংস করা হতে পারে। পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদ-এ অনুষ্ঠিত সাম্প্রতিক শান্তি আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান সমঝোতায় পৌঁছাতে ব্যর্থ হওয়ার পর পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, যেসব জাহাজ ইরানের বন্দরে যাতায়াত করছে না, তাদের চলাচলে বাধা দেওয়া হবে না। তবে এই উত্তেজনার প্রভাব ইতোমধ্যেই বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে পড়েছে। ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের ওপরে উঠে গেছে, আর ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
এই পরিস্থিতিতে তেলের দাম বৃদ্ধির প্রভাব বিশ্বজুড়ে পড়ছে। ইউরোপের বিভিন্ন দেশ কর কমিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করছে। একইসঙ্গে অস্ট্রেলিয়া ও অন্যান্য দেশেও শিল্পখাতে চাপ বাড়ছে। তবে সবচেয়ে বেশি উদ্বেগ দেখা যাচ্ছে ভারত-কে ঘিরে, কারণ দেশটি জ্বালানির জন্য আমদানির ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল।
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি রুট হরমুজ প্রণালী দিয়ে প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও গ্যাস পরিবহন হয়। ভারতের মোট পেট্রোলিয়াম চাহিদার বড় অংশ এই রুটের মাধ্যমে আসে। দেশটি প্রায় ৯০ শতাংশ জ্বালানি আমদানি করে এবং তার একটি বড় অংশ হরমুজ হয়ে প্রবাহিত হয়।
বিশেষজ্ঞ হর্ষ পন্থ জানিয়েছেন, ভারতের তেলের প্রায় অর্ধেক সরবরাহ এই প্রণালির ওপর নির্ভরশীল। ফলে অবরোধ পরিস্থিতি জ্বালানি ব্যয় আরও বাড়াবে এবং সরবরাহ ব্যবস্থাকে চাপের মুখে ফেলবে।
এছাড়া এলএনজি ও এলপিজি সরবরাহেও বড় ধরনের প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। ভারত বিশ্বের অন্যতম বড় এলএনজি ও এলপিজি আমদানিকারক, যার বড় অংশ মধ্যপ্রাচ্য থেকে আসে এবং হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়। বিশেষ করে কাতার এলএনজি সরবরাহের প্রধান উৎস হওয়ায় পরিস্থিতি আরও সংবেদনশীল হয়ে উঠেছে।
একইসঙ্গে সার, রাসায়নিক ও ফার্মাসিউটিক্যাল সরবরাহ শৃঙ্খলেও ব্যাঘাত দেখা দিতে পারে। আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর মতে, এই রুট দিয়ে বিশ্বের বড় অংশের সার পরিবহন হয়, যা ভারতের কৃষিখাতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
অর্থনৈতিক দিক থেকেও চাপ বাড়ছে। তেলের দাম বৃদ্ধির কারণে আমদানি ব্যয় বাড়বে, বাণিজ্য ঘাটতি বৃদ্ধি পাবে এবং মুদ্রার ওপর চাপ তৈরি হবে। ইতোমধ্যে ভারতের প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস কমিয়ে আনা হয়েছে।
সব মিলিয়ে, হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন অবরোধ শুধু জ্বালানি নয়, বরং শিল্প, কৃষি, বাণিজ্য ও সামগ্রিক অর্থনীতিতে ভারতের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।