• ২৫শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ১১ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

৩ দফা দাবিতে কলেজ কর্মচারীদের মানববন্ধন

দিনাজপুর প্রতিনিধি
প্রকাশিত মে ২৪, ২০২৬, ১৫:৫৯ অপরাহ্ণ
৩ দফা দাবিতে কলেজ কর্মচারীদের মানববন্ধন
সংবাদটি শেয়ার করুন....

“বৈষম্য থেকে মুক্তি চাই, চাকরি রাজস্বখাতে স্থানান্তর চাই” — এই স্লোগানকে সামনে রেখে মানববন্ধন ও স্মারকলিপি প্রদান করেছে দিনাজপুর সরকারি কলেজ বেসরকারি কর্মচারী ইউনিয়ন।

রোববার সকালে দিনাজপুর সরকারি কলেজের প্রধান ফটকের সামনে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। পরে অংশগ্রহণকারীরা জেলা প্রশাসক ও কলেজ অধ্যক্ষের কাছে স্মারকলিপি জমা দেন।

মানববন্ধনে সরকারি কলেজে কর্মরত বেসরকারি ও অত্যাবশ্যকীয় কর্মচারীরা অংশ নেন। এ সময় তারা তিন দফা দাবি তুলে ধরেন। দাবিগুলো হলো— চাকরি রাজস্বখাতে স্থানান্তর, বৈষম্য দূরীকরণ এবং সরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত হয়েও কেন তারা বেসরকারি কর্মচারী হিসেবে থাকবেন তার ব্যাখ্যা প্রদান।

বক্তারা বলেন, দেশের প্রায় ৩৫০টি সরকারি কলেজে তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির বিভিন্ন পদে বহু কর্মচারী ২০ থেকে ৩৫ বছর ধরে বেসরকারিভাবে দায়িত্ব পালন করছেন। সরকারি প্রতিষ্ঠানে কাজ করলেও তারা এখনো চাকরির স্থায়িত্ব, ন্যায্য বেতন-ভাতা এবং মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত।

তাদের অভিযোগ, বর্তমান দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির বাজারে মাসে মাত্র ৮ থেকে ১২ হাজার টাকা বেতনে মানবেতর জীবনযাপন করতে হচ্ছে। একই প্রতিষ্ঠানে নতুন নিয়োগ পাওয়া কর্মচারীরা সরকারি সুযোগ-সুবিধা পেলেও দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞ কর্মচারীরা অবহেলার শিকার হচ্ছেন।

বক্তারা আরও বলেন, ১৯৯১ সালের নিয়োগ বিধি অনুযায়ী কলেজের শূন্য পদে স্থানীয়ভাবে নিয়োগের সুযোগ ছিল এবং জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে অস্থায়ী কর্মচারীদের অনেকেই রাজস্বখাতে অন্তর্ভুক্ত হতেন। তবে ২০০৪ সালের পর কেন্দ্রীয় নিয়োগ ব্যবস্থা চালু হওয়ায় দীর্ঘদিন কর্মরত এসব কর্মচারী সেই সুযোগ থেকে বঞ্চিত হন।

তারা শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন পরিপত্রের উল্লেখ করে বলেন, অস্থায়ী ও অত্যাবশ্যকীয় কর্মচারীদের নিয়োগ এবং মজুরি প্রদানের বিধান থাকলেও তাদের চাকরি স্থায়ীকরণ বা রাজস্বখাতে স্থানান্তরের বিষয়ে কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।

মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন দিনাজপুর সরকারি কলেজ বেসরকারি কর্মচারী ইউনিয়নের সভাপতি মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক সোহেল রানা, দিনাজপুর সিটি কলেজের সভাপতি মোছা. জেবুন্নেসা, দিনাজপুর সরকারি মহিলা কলেজের নাজমা ইয়াসমিন লিপি এবং আমিনুল ইসলাম।