• ২৭শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ১২ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নলভোগে ভবন নির্মাণে রাজউক বিধি লঙ্ঘন: নিরাপত্তাহীনতায় বাড়ছে প্রাণহানির শঙ্কা

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত এপ্রিল ১৩, ২০২৬, ০৯:০৬ পূর্বাহ্ণ
নলভোগে ভবন নির্মাণে রাজউক বিধি লঙ্ঘন: নিরাপত্তাহীনতায় বাড়ছে প্রাণহানির শঙ্কা
সংবাদটি শেয়ার করুন....

রাজধানীর উত্তরাস্থ নলভোগ এলাকার (কবরস্থানের পশ্চিমপাশে)  নির্মাণাধীন একটি ভবন ঘিরে গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় বাসিন্দা ও পথচারীদের দাবি, কোনো ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছাড়াই ঝুঁকিপূর্ণভাবে ভবন নির্মাণকাজ চালানো হচ্ছে, যা যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে।

অভিযোগ রয়েছে, নির্মাণকাজে রাজউকের অনুমোদিত নকশা ও বিধিমালা মানা হচ্ছে না। এমনকি ভবন নির্মাণ সংক্রান্ত তথ্যসম্বলিত বাধ্যতামূলক সাইনবোর্ডও স্থাপন করা হয়নি। অনুমোদিত নকশার কোনো কপি নির্মাণস্থলেও দৃশ্যমান নয়, যা আইন লঙ্ঘনের স্পষ্ট প্রমাণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক নির্মাণ শ্রমিক জানান, তাদের কোনো ধরনের নিরাপত্তা সরঞ্জাম—যেমন হেলমেট, জ্যাকেট—প্রদান করা হয়নি এবং নেই প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণও। ফলে প্রতিদিনই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করতে হচ্ছে তাদের।

সরেজমিনে দেখা গেছে, ভবনের চারপাশে নেই কোনো সেফটি নেট বা ব্যারিকেড। শ্রমিকরা ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় সেন্টারিংয়ের কাজ করছেন। ঘনবসতিপূর্ণ এই এলাকায় এমন নিরাপত্তাহীন নির্মাণকাজ জনসাধারণের জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। সামান্য একটি ইট বা নির্মাণসামগ্রী ছিটকে পড়ে যে কোনো সময় ঘটতে পারে প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা।

উল্লেখ্য, কিছুদিন আগেই এই ভবনের সামনের একটি নির্মাণাধীন ভবন থেকে ইট পড়ে এক নারী পথচারীর মৃত্যু হয়েছিল, যা এলাকাবাসীর মধ্যে আতঙ্ক আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

এ বিষয়ে প্রতিষ্ঠানের কর্ণধার আব্দুর কাদেরের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি অভিযোগ অস্বীকার করেন এবং দায় রাজউকের ওপর চাপান।

অন্যদিকে দায়িত্বপ্রাপ্ত রাজউক কর্মকর্তা জানান, তিনি সরেজমিনে গিয়ে অনিয়মের সত্যতা পেয়েছেন। তিনি বলেন, “নকশা নিয়ে অফিসে হাজির হওয়ার জন্য নির্দেশনা ও মৌখিক সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে, কিন্তু সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি এখনো তা মানেননি।” ফলে প্রশ্ন উঠছে—তারা কি আইনের ঊর্ধ্বে?

রাজউকের নিয়মিত অভিযান ও সতর্কবার্তার পরও এ ধরনের অনিয়ম চলতে থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা। বিশেষজ্ঞদের মতে, এভাবে নিয়ম ভঙ্গ করে নির্মাণকাজ চালানো শুধু আইন লঙ্ঘনই নয়, বরং এটি বড় ধরনের দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি করছে, যা দ্রুত বন্ধ না হলে ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনতে পারে।