• ৫ই আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ২১শে শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জুলাই আন্দোলনের কৃতিত্ব জনগণের, কোনো ব্যক্তি বা দলের নয়’ — প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

দেশ পুনর্গঠনে ঐক্যের আহ্বান, রাষ্ট্র সংস্কারের ৩১ দফা বাস্তবায়নের অঙ্গীকার; জ্বালানি, স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও কর্মসংস্থানে নানা পরিকল্পনা তুলে ধরলেন প্রধানমন্ত্রী

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত আগস্ট ৪, ২০২৬, ২১:১৩ অপরাহ্ণ
জুলাই আন্দোলনের কৃতিত্ব জনগণের, কোনো ব্যক্তি বা দলের নয়’ — প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
সংবাদটি শেয়ার করুন....

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, জুলাই-আগস্টের আন্দোলন ছিল সম্পূর্ণভাবে জনগণের আন্দোলন এবং এর সফলতার কৃতিত্ব দেশের সর্বস্তরের জনগণের। তিনি বলেন, কোনো একক ব্যক্তি বা রাজনৈতিক দলের নয়, বরং জনগণের অংশগ্রহণের কারণেই এ আন্দোলন সফল হয়েছে।

মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) বিকেলে রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন অব বাংলাদেশ (কেআইবি)-তে অনুষ্ঠিত ‘গণতন্ত্র আদায়ে ১৭ বছরের অনিবার সংগ্রাম ও রক্তঝরা জুলাই জাগরণ’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, গত ১৭ বছর ধরে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলনে বিএনপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সাধারণ মানুষ মাঠে ছিলেন। জনগণকে কখনো একা ফেলে আন্দোলনের মাঠ ছাড়েনি বিএনপি। তাই জুলাই আন্দোলনের অর্জন পুরো জাতির।

সব রাজনৈতিক দলের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, এখন সময় দেশ পুনর্গঠন ও জনগণের প্রত্যাশা পূরণের। তিনি বলেন, ষড়যন্ত্র মোকাবিলায় সবাইকে ধৈর্য ও সতর্কতার সঙ্গে কাজ করতে হবে এবং জনগণের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করতে হবে।

বিএনপির রাষ্ট্র সংস্কারের ৩১ দফার প্রসঙ্গ তুলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে প্রণীত সংস্কার প্রস্তাব পরবর্তীতে রাজনৈতিক মিত্রদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে ৩১ দফায় রূপ নেয়। গত সাধারণ নির্বাচনে জনগণের সমর্থনের মাধ্যমে এটি এখন দেশের মানুষের সম্মিলিত রাষ্ট্র সংস্কারের রূপরেখায় পরিণত হয়েছে।

সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর দেশের সার্বিক পরিস্থিতির চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছরের শাসনে অর্থনীতি, স্বাস্থ্য ব্যবস্থা ও প্রশাসন দুর্বল হয়ে পড়েছিল। আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও জনগণের দুর্ভোগ কমাতে সরকার দ্রুত পদক্ষেপ নিয়েছে এবং সেই প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী জানান, শিল্প ও আবাসিক খাতে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক করতে মিয়ানমার থেকে গ্যাস আমদানির আলোচনা শুরু হয়েছে। পাশাপাশি মালয়েশিয়ার পেট্রোনাসের সঙ্গে এলএনজি আমদানির আলোচনা চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে জাতীয় গ্রিডে অতিরিক্ত প্রায় ৪ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ যুক্ত করা সম্ভব হবে।

তিনি আরও জানান, দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান জোরদারে দীর্ঘদিন অকার্যকর থাকা বাপেক্সকে পুনরুজ্জীবিত করে দুটি নতুন রিগ কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

বেকারত্ব দূর করতে মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি শ্রমিকদের কর্মসংস্থানের সুযোগ পুনরায় চালু হওয়ার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, চট্টগ্রাম ও নারায়ণগঞ্জে নতুন শিল্পাঞ্চল গড়ে তোলা হচ্ছে, যেখানে চীন ও দক্ষিণ কোরিয়ার বিনিয়োগ আসবে। এছাড়া বিটিএমসির প্রায় ৫০টি বন্ধ মিল-কারখানা বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা হাজার হাজার মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করবে।

স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়নে আগামী পাঁচ বছরে প্রতিটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ১০১ শয্যায় উন্নীত করার পরিকল্পনার কথা জানান প্রধানমন্ত্রী। পাশাপাশি দুই থেকে তিন বছরের মধ্যে প্রতিটি উপজেলা হাসপাতালে অন্তত ১০ শয্যার ডায়ালাইসিস ইউনিট চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এছাড়া চিকিৎসা সরঞ্জামের ওপর শুল্ক কমিয়ে সাধারণ মানুষের চিকিৎসা ব্যয় কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

শিক্ষা ব্যবস্থাকে আরও আনন্দমুখর ও যুগোপযোগী করার ওপর গুরুত্বারোপ করে তারেক রহমান বলেন, শিক্ষার্থীদের চাহিদা বুঝে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে। পাশাপাশি তরুণদের মাদক থেকে দূরে রাখতে দেশব্যাপী খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড বাড়ানোর ওপরও জোর দেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের মানুষ শান্তি, উন্নত শিক্ষা, মানসম্মত চিকিৎসা, নিরাপত্তা এবং যোগ্যতার ভিত্তিতে কর্মসংস্থানের সুযোগ চায়। এসব মৌলিক প্রত্যাশা পূরণে সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

জুলাই আন্দোলনে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি ও পরিবারগুলোর পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যাদের চিকিৎসা প্রয়োজন তাদের সুচিকিৎসা এবং যাদের কর্মসংস্থান প্রয়োজন তাদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হবে।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিএনপির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এতে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতারা বক্তব্য দেন। এছাড়া বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য, মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, দলটির কেন্দ্রীয় নেতাসহ বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।