শেরেবাংলা নগরে নতুন সচিবালয় নির্মাণের অনুমোদন দিল মন্ত্রিসভা
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত অক্টোবর ১৯, ২০২৬, ০১:৪১ পূর্বাহ্ণ
সংবাদটি শেয়ার করুন....
রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের পুরোনো বাণিজ্য মেলার মাঠে বাংলাদেশ সচিবালয় স্থানান্তরের প্রস্তাবে অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রায় ৩১ দশমিক ৫৮ একর জমিতে ১৪টি ১২ তলা ভবন নির্মাণ করা হবে। ২০২৯ সাল থেকে নতুন কমপ্লেক্সে দাপ্তরিক কার্যক্রম শুরুর আশা করছে সরকার।
রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের পুরোনো বাণিজ্য মেলার মাঠে বাংলাদেশ সচিবালয় স্থানান্তরের প্রস্তাবে অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। আগারগাঁওয়ে প্রায় ৩১ দশমিক ৫৮ একর জমিতে নতুন সচিবালয় কমপ্লেক্স নির্মাণ করা হবে। ২০২৯ সাল থেকে এই কমপ্লেক্সে সরকারি দপ্তরগুলোর কার্যক্রম শুরু হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
আজ রোববার বিকেলে সচিবালয়ে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি এ তথ্য জানান। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার ২৫তম বৈঠকে এ প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়। পরে সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে সংবাদ সম্মেলনে সিদ্ধান্তের বিস্তারিত তুলে ধরেন তিনি।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান, বিখ্যাত স্থপতি লুই আই কানের মাস্টারপ্ল্যান অনুসরণ করে নতুন সচিবালয়ের ধারণাগত স্থাপত্য নকশা তৈরি করেছে স্থাপত্য অধিদপ্তর। পুরো প্রকল্পটি বাংলাদেশ সরকারের নিজস্ব অর্থায়নে বাস্তবায়ন করা হবে।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রায় ৩১ দশমিক ৫৮ একর জায়গায় তিনটি বেজমেন্টসহ ১৪টি ১২ তলা ভবন নির্মাণ করা হবে। এসব ভবনে মোট প্রায় ৩৩ লাখ ১৬ হাজার বর্গফুট জায়গা থাকবে। পার্কিংয়ের জন্য রাখা হবে মোট ৩ হাজার ৮০০টি গাড়ির ব্যবস্থা, যার মধ্যে ২০০টি ভূ-উপরিস্থ পার্কিং থাকবে।
নতুন কমপ্লেক্সে মসজিদ, ৩৫০ জন ধারণক্ষমতাসম্পন্ন দুটি বহুমুখী হল, একটি ক্যাফেটেরিয়া ও একটি ডাকঘর থাকবে। প্রকল্প এলাকার প্রায় ৩০ শতাংশ জায়গায় সবুজায়ন ও জলাধারের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। বর্তমানে বাংলাদেশ সচিবালয় প্রায় ১৭ একর জমির ওপর অবস্থিত।
এদিকে, মন্ত্রিসভার বৈঠকে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের নাম পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, মন্ত্রণালয়টির নাম হবে ‘নারী ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়’।
সভায় ‘বিশেষ সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন অধ্যাদেশ, ২০২৬’-এর খসড়ায় নীতিগত ও চূড়ান্ত অনুমোদনও দেওয়া হয়েছে। আমদানিনির্ভর জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমানো এবং বিদ্যুৎ খাতে ভর্তুকির পরিমাণ হ্রাসের লক্ষ্য নিয়ে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান, অধিকতর জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের জন্য বিদ্যুৎ বিভাগ ‘জাতীয় নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কৌশলপত্র ২০২৬-২০৩০’ প্রণয়ন করেছে।
আগামী গ্রীষ্মের আগে ৩ থেকে ৪ হাজার মেগাওয়াট ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সরকার ইতোমধ্যে প্রণোদনা ঘোষণা করেছে।