• ৩রা অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ১৮ই আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বেনাপোলে ৩ কোটি টাকার রাজস্ব ফাঁকি রোধে কাস্টমসের কড়াকড়ি

যুগ্ম কমিশনার রুবেলের বিরুদ্ধে অপপ্রচার, ক্ষুব্ধ ব্যবসায়ী মহল

বেনাপোল শার্শা,যশোর
প্রকাশিত মার্চ ১৭, ২০২৬, ১৬:০৩ অপরাহ্ণ
বেনাপোলে ৩ কোটি টাকার রাজস্ব ফাঁকি রোধে কাস্টমসের কড়াকড়ি
সংবাদটি শেয়ার করুন....

 

যশোরের বেনাপোল স্থলবন্দরে মিথ্যা ঘোষণা ও রাজস্ব ফাঁকি রোধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ। গত দুই মাসে বিভিন্ন পণ্যচালানে অনিয়ম শনাক্ত করে প্রায় ৩ কোটি ৩৫ লাখ টাকার রাজস্ব ফাঁকি ও ঘোষণা বহির্ভূত পণ্য জব্দ করা হয়েছে।

কাস্টমস সূত্রে জানা যায়, মিথ্যা ঘোষণায় আমদানিকৃত ফল, মাছ, মোটরযানের যন্ত্রাংশ, শাড়ি, প্রসাধনী ও কেমিক্যালসহ বিভিন্ন পণ্য আটক করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এসব অভিযানের ফলে সরকারের বিপুল রাজস্ব আদায় নিশ্চিত হয়েছে।

বেনাপোল কাস্টমস হাউসে যোগদানের পর থেকে যুগ্ম কমিশনার সাইদ আহমেদ রুবেল রাজস্ব আদায়ে স্বচ্ছতা ও কঠোরতা আরোপ করেছেন। তার এ অবস্থানের কারণে একটি অসাধু চক্র তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এমনকি তাকে বদলির জন্য বিভিন্ন মহলে তদবিরের অভিযোগও রয়েছে।

এ বিষয়ে বেনাপোল আমদানি-রপ্তানিকারক সমিতি ও সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের নেতারা বলেন, “তিনি একজন সৎ ও দক্ষ কর্মকর্তা। তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।” তারা এ ধরনের অপতৎপরতার নিন্দা জানান।

কাস্টমস কর্মকর্তারা জানান, পচনশীল পণ্যের ক্ষেত্রে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের নির্দেশনা অনুযায়ী ট্রাকভিত্তিক ওজন যাচাই জোরদার করা হয়েছে। এতে প্রতিটি ট্রাকে অতিরিক্ত এক থেকে দেড় টন পণ্যের ওপর শুল্ক আদায় নিশ্চিত হচ্ছে।

এ ছাড়া ASYCUDA World System-এর ‘জি ট্রাক মুভমেন্ট’ চালুর ফলে বিনা এন্ট্রিতে ভারতীয় ট্রাক প্রবেশ বন্ধ হয়েছে। ফলে রাজস্ব ফাঁকি রোধে ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে।

তথ্য অনুযায়ী, আঙ্গুর, মোটরযানের যন্ত্রাংশ, মাছ, কাপড়, কেমিক্যালসহ বিভিন্ন পণ্যে ফাঁকি দেওয়া রাজস্ব ও জরিমানাসহ মোট ৩ কোটি ৩৫ লাখ টাকা আদায় করা হয়েছে। একই সঙ্গে অনিয়মের অভিযোগে তিনটি সিঅ্যান্ডএফ লাইসেন্স সাময়িকভাবে বাতিল করা হয়েছে।

বন্দর সংশ্লিষ্টরা জানান, সাম্প্রতিক আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির প্রভাবে আমদানি-রপ্তানিতে কিছুটা স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। চলতি অর্থবছরের প্রথম আট মাসে ৬৮ হাজারের বেশি ট্রাকে প্রায় ১২ লাখ ৩৫ হাজার মেট্রিক টন পণ্য আমদানি-রপ্তানি হয়েছে।

বেনাপোল কাস্টমস কমিশনার ফাইজুর রহমান বলেন, “বৈধ ব্যবসায়ীদের সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। তবে রাজস্ব ফাঁকি রোধে আমরা জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করছি। অনিয়মের ক্ষেত্রে কোনো ছাড় নেই।