• ১৯শে অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ৩রা কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

অর্থনীতির গণতন্ত্রায়নে বাড়াতে হবে করদাতার সংখ্যা: জনপ্রশাসন উপদেষ্টা

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত অক্টোবর ১৯, ২০২৬, ০১:১০ পূর্বাহ্ণ
অর্থনীতির গণতন্ত্রায়নে বাড়াতে হবে করদাতার সংখ্যা: জনপ্রশাসন উপদেষ্টা
সংবাদটি শেয়ার করুন....
বর্তমান করদাতাদের ওপর অতিরিক্ত চাপ না বাড়িয়ে কর প্রদানে সক্ষম নতুন নাগরিকদের করের আওতায় আনার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসন উপদেষ্টা মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ। তিনি বলেছেন, অর্থনীতির গণতন্ত্রায়ন নিশ্চিত করতে করদাতার সংখ্যা বাড়ানোর পাশাপাশি কর ব্যবস্থাপনায় সংস্কার, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি প্রতিষ্ঠা জরুরি।
অর্থনীতির গণতন্ত্রায়ন নিশ্চিত করতে করদাতার সংখ্যা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসন উপদেষ্টা ও বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ। তিনি বলেছেন, বর্তমান করদাতাদের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি না করে কর দেওয়ার সক্ষমতা রয়েছে—এমন নতুন নাগরিকদের করের আওতায় আনতে হবে। অর্থনীতিতে বেশি মানুষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা গেলে করের পরিধি বাড়বে এবং দেশের উন্নয়ন কার্যক্রমে রাজস্ব সংগ্রহ সহজ হবে।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) ঢাকার একটি হোটেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এমটিএম (মাস্টার অব ট্যাক্স ম্যানেজমেন্ট) অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের ‘তৃতীয় অভিষেক অনুষ্ঠান ও এমটিএম নাইট ২০২৬’-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি টেকসই করতে পেশাজীবীদের নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি।
জনপ্রশাসন উপদেষ্টা বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকারের অন্যতম প্রধান অর্থনৈতিক লক্ষ্য ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে উন্নীত করা। এটি শুধু অর্থনীতির আকার বাড়ানোর পরিকল্পনা নয়; বরং উৎপাদনমুখী, বিনিয়োগবান্ধব, কর্মসংস্থানসমৃদ্ধ ও স্বনির্ভর অর্থনীতি গড়ে তোলার অঙ্গীকার।
তিনি বলেন, এ লক্ষ্য অর্জনে রপ্তানি বহুমুখীকরণ, দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধি, শিল্পায়ন, উদ্যোক্তা সৃষ্টি এবং দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়ন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিটি পেশাজীবীর কর্মক্ষেত্রে অবদান সম্মিলিতভাবে জাতীয় সাফল্যে ভূমিকা রাখে।
ইসমাইল জবিউল্লাহ বলেন, একটি দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি কেবল উৎপাদন ও বিনিয়োগের ওপর নির্ভরশীল নয়। কার্যকর রাজস্ব আহরণ, সুশৃঙ্খল আর্থিক ব্যবস্থাপনা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিও অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি। এসব ক্ষেত্রে কর ও আর্থিক ব্যবস্থাপনা পেশাজীবীদের দায়িত্ব অনেক বেশি।
দেশের কর-জিডিপি অনুপাত তুলে ধরে তিনি বলেন, বাংলাদেশে এই অনুপাত প্রায় ৬ দশমিক ৭ শতাংশ। অন্যদিকে ভারত ও চীনে তা যথাক্রমে প্রায় ১২ ও ২০ শতাংশ। বাংলাদেশে করদাতার সংখ্যাও তুলনামূলকভাবে কম। উন্নত দেশের মতো রাষ্ট্রীয় সেবা ও সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে রাজস্ব আহরণ বাড়ানোর পাশাপাশি কর ব্যবস্থাপনায় কার্যকর সংস্কার প্রয়োজন।
তিনি আরও বলেন, করদাতাদের হয়রানিমুক্ত সেবা নিশ্চিত করতে হবে এবং কর প্রদানে সক্ষম ব্যক্তিদের স্বেচ্ছায় কর দিতে উৎসাহিত করতে হবে।
প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিক দর্শন তুলে ধরে জনপ্রশাসন উপদেষ্টা বলেন, রাষ্ট্রের সক্ষমতা বৃদ্ধি, প্রশাসনিক দক্ষতা নিশ্চিত করা এবং জনগণের অর্থের যথাযথ ব্যবহার সরকারের গুরুত্বপূর্ণ অগ্রাধিকার। উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণের সময় বিনিয়োগের বিপরীতে প্রত্যাশিত সুফল বা বিনিয়োগের মুনাফা (আরওআই) বিবেচনায় নিতে হবে। সরকারি অর্থ ব্যয়ের ক্ষেত্রে জনগণের স্বার্থ ও বাস্তব ফলাফলকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।
বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারে অর্থনীতির গণতন্ত্রায়নের বিষয়টি উল্লেখ রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, এর মূল লক্ষ্য হলো প্রতিটি নাগরিকের উৎপাদনশীল সক্ষমতাকে কাজে লাগানো। আর্থিক খাতের পেশাজীবীদের দায়িত্ব হচ্ছে মানুষের এই সক্ষমতা বিকাশের সুযোগ তৈরি করা এবং উদ্যোক্তা ও উৎপাদনশীল উদ্যোগকে এগিয়ে নিতে সহায়তা করা।
এমটিএম অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের সদস্যদের উদ্দেশে ইসমাইল জবিউল্লাহ বলেন, নিজ নিজ কর্মক্ষেত্রে পেশাগত সততা, স্বচ্ছতা, দক্ষতা ও উদ্ভাবনী চিন্তার পরিচয় দিতে হবে। করসংক্রান্ত জটিলতা কমানো, ডিজিটাল করব্যবস্থা সম্প্রসারণ, রাজস্ব ফাঁকি প্রতিরোধ এবং করদাতাদের সেবার মান উন্নয়নে সরকারকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিতে হবে। পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মধ্যে কর বিষয়ে সচেতনতা বাড়াতেও অ্যালামনাই সদস্যদের কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে।
তিনি আরও বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, উপাত্ত বিশ্লেষণ ও আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার কর প্রশাসনকে আরও দক্ষ, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক করে তুলতে পারে। এ জন্য পেশাগত প্রশিক্ষণ, গবেষণা এবং আন্তর্জাতিক উত্তম চর্চা সম্পর্কে জ্ঞান অর্জনের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।
অনুষ্ঠানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এমটিএম অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের বিভিন্ন পর্যায়ের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।