• ২৩শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ৯ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রাজউকের উন্নয়ন নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমে জোরদার তদারকির নির্দেশ

রাজধানীকে পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য নগরী গড়তে “জিরো টলারেন্স” নীতিতে কাজের আহ্বান

জাহেদী আরমান
প্রকাশিত মে ২৩, ২০২৬, ১৫:৫৫ অপরাহ্ণ
রাজউকের উন্নয়ন নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমে জোরদার তদারকির নির্দেশ
সংবাদটি শেয়ার করুন....

রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক)-এর উন্নয়ন নিয়ন্ত্রণ উইং-এর সার্বিক কার্যক্রম পর্যালোচনার লক্ষ্যে শুক্রবার সকালে রাজউক অডিটোরিয়ামে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী আহম্মদ সোহেল মনজুর, এমপি। সভাপতিত্ব করেন রাজউকের চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার মোঃ রিয়াজুল ইসলাম।

সভায় সদস্য (উন্নয়ন নিয়ন্ত্রণ) প্রারম্ভিক বক্তব্যে উন্নয়ন নিয়ন্ত্রণ উইং-এর কার্যক্রম ও দায়িত্ব তুলে ধরে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আগামী ২৮ জুনের মধ্যে একটি বিস্তারিত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশনা দেন। প্রতিবেদনে রাজধানীর বিভিন্ন ভবনে স্যুয়ারেজ লাইন, এসটিপি (STP) এবং সেপটিক ট্যাংকের উপস্থিতি ও কার্যকারিতা সম্পর্কিত তথ্য অন্তর্ভুক্ত করার কথা বলা হয়। বিশেষ করে গুলশান, বনানী ও বারিধারা এলাকার বিদ্যমান পরিস্থিতির বাস্তবচিত্র তুলে ধরার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

পরে প্রতিমন্ত্রী আহম্মদ সোহেল মনজুর জোন পরিচালক, এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট এবং ইমারত পরিদর্শকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। তিনি বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রত্যাশা অনুযায়ী রাজধানী ঢাকাকে পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য নগরীতে রূপান্তরের লক্ষ্যে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মতামত মনোযোগ দিয়ে শোনেন এবং সম্ভাব্য সমাধান নিয়েও আলোচনা করেন।

প্রতিমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে উইংভিত্তিক সমস্যা চিহ্নিত করে সমাধানমুখী প্রতিবেদন প্রণয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। একই সঙ্গে রাজউকের জনবল বৃদ্ধি এবং নিয়মিত প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দক্ষতা উন্নয়নের জন্য কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করেন। নিয়মিত অভিযান পরিচালনার মাধ্যমে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ ও সিলগালা কার্যক্রম আরও জোরদারের নির্দেশনাও দেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, পরিদর্শকদের কার্যক্রমে গতিশীলতা আনতে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নিয়মিত দিকনির্দেশনা নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি ঢাকা ওয়াসা, ডিপিডিসি ও ডেসকোর সঙ্গে সমন্বিত আন্তঃসংস্থাগত যোগাযোগ বাড়ানোর ওপরও গুরুত্বারোপ করেন।

কর্মকর্তাদের উদ্দেশে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ভয়ভীতির ঊর্ধ্বে থেকে দায়িত্ব পালন করতে হবে এবং রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে কেউ যেন অবৈধ সুবিধা গ্রহণ করতে না পারে, তা কঠোরভাবে প্রতিহত করতে হবে। তিনি “জিরো টলারেন্স (Zero Tolerance)” নীতি অনুসরণ করে কার্যক্রম পরিচালনার ওপর জোর দেন।

সভাপতির বক্তব্যে রাজউক চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার মোঃ রিয়াজুল ইসলাম বলেন, রাজউককে একটি আধুনিক ও সেবামুখী প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর করতে হবে। তিনি “নো ফিজিক্যাল কমিউনিকেশন (No Physical Communication)” নীতি বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্ব দিয়ে বলেন, অনলাইন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে সর্বোচ্চ সেবা নিশ্চিত করতে হবে।

তিনি আরও জানান, বিগত তিন মাসে যেসব প্ল্যানিং পারমিট প্রদান করা হয়েছে, সেসব প্লট মালিকদের নিয়ে শিগগিরই মতবিনিময় সভা আয়োজন করা হবে। এর মাধ্যমে তারা নিজেদের সমস্যা তুলে ধরতে পারবেন এবং রাজউকের বিধি-বিধান মেনে চলার বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি পাবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

সভায় রাজউকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। শেষে সংশ্লিষ্ট সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ধন্যবাদ জানিয়ে সভার সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।