• ২৩শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ৯ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শিশু ও নারী নির্যাতন ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে

দ্রুত বিচার, সামাজিক প্রতিরোধ ও নৈতিক জাগরণের ওপর জোর

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত মে ২৩, ২০২৬, ১৬:১৭ অপরাহ্ণ
শিশু ও নারী নির্যাতন ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে
সংবাদটি শেয়ার করুন....

বাংলাদেশে শিশু ও নারী নির্যাতন এবং ধর্ষণের ঘটনা সাম্প্রতিক সময়ে চরম উদ্বেগজনক রূপ নিয়েছে। এটি শুধু আইনশৃঙ্খলার সমস্যা নয়; বরং সামাজিক নিরাপত্তা, পারিবারিক শিক্ষা এবং নৈতিক মূল্যবোধের গভীর সংকটকেও সামনে নিয়ে এসেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

মানবাধিকার সংগঠন HRSS-এর সাম্প্রতিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ১৬ মাসে দেশে ১ হাজার ৮৯০ জন শিশু ও কিশোরী চরম নির্যাতনের শিকার হয়েছে। এর মধ্যে অন্তত ৫৮০ জন শিশু ধর্ষণের শিকার এবং ৪৮৩ জন শিশুকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে।

রাজধানীর পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসাকে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনা এবং চট্টগ্রামে চার বছরের এক শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার মতো নৃশংস অপরাধ দেশজুড়ে ব্যাপক ক্ষোভ ও উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, এই ভয়াবহ সামাজিক ব্যাধি প্রতিরোধে এখনই দীর্ঘমেয়াদি, সমন্বিত ও কার্যকর পরিকল্পনা বাস্তবায়ন জরুরি।

তাদের মতে, প্রথমত ধর্ষণ ও শিশু নির্যাতনের মামলাগুলো বিশেষ ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে দ্রুত নিষ্পত্তি করতে হবে। অপরাধীর সামাজিক, রাজনৈতিক বা অর্থনৈতিক অবস্থান বিবেচনা না করে আইনের নিরপেক্ষ প্রয়োগ নিশ্চিত করার দাবিও উঠেছে।

দ্বিতীয়ত, পুলিশ ও বিচার ব্যবস্থাকে আরও মানবিক, আধুনিক এবং ভুক্তভোগীবান্ধব করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। প্রতিটি জেলায় আইনি সহায়তা, চিকিৎসা, নিরাপত্তা এবং মানসিক কাউন্সেলিংয়ের জন্য সমন্বিত সহায়তা কেন্দ্র গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তার কথাও বলা হয়েছে।

এছাড়া পরিবার, সমাজ ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ছেলেদের ছোটবেলা থেকেই নারী ও শিশুর প্রতি শ্রদ্ধাশীল আচরণ শেখাতে হবে। একই সঙ্গে স্কুল-কলেজে বয়সোপযোগী যৌন সচেতনতা, নৈতিক শিক্ষা এবং আত্মরক্ষামূলক প্রশিক্ষণ অন্তর্ভুক্ত করা জরুরি।

তারা আরও বলেন, ইন্টারনেটে পর্নোগ্রাফি, নারীবিদ্বেষী কনটেন্ট এবং সহিংসতাকে উসকে দেয়—এমন কনটেন্ট কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। পাশাপাশি গণমাধ্যমকে ভুক্তভোগীর পরিচয় গোপন রেখে অপরাধীর পরিচয় ও শাস্তির বিষয়টি দায়িত্বশীলভাবে তুলে ধরার আহ্বান জানানো হয়েছে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, শিশু ও নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্র, সমাজ এবং পরিবারের যৌথ দায়িত্ব। শুধু প্রতিবাদ নয়—এখন প্রয়োজন কার্যকর আইন, সামাজিক প্রতিরোধ এবং নৈতিক জাগরণ।